গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড়ে যোগীপোল ও গিলাতলায় ব্যাপক ক্ষতি

একরামুল হোসেন লিপু

বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে খানজাহান আলী থানার যোগীপোল ও গিলতলা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানঘরের টিন, ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ও কাঁচা ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধ শতাধিক পরিবার। টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় দরিদ্র, অসহায় ও দিনমজুর পরিবারগুলোকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি পরিদর্শন শেষে পরিবারের সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশে অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত, খানজাহান আলী থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, ইউনিয়নের সচিব, স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এসময় খুলনা জেলা প্রশাসক বলেন, “সরকার সব সময় মানুষের পাশে রয়েছে, যেন দুর্যোগে তারা হতাশ না হয় এবং সরকারের সহযোগিতাটা যেন তারা ঠিক সময়ে পায়। এখানে আমরা যেটা দেখেছি টিনের চাল নেই, বাতাসে উড়ে গেছে। তাদের জিনিসপত্রের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে যেহেতু আমাদের বরাদ্দ যথেষ্ট রয়েছে। সেই অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে একটা ফুড ব্যাগে ১০ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, চিনি, লবণ, মসুরের ডাল, তাৎক্ষণিকভাবে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। টিনও দিব। তাদের যদি আরো কোন কিছু লাগে আমরা অবশ্যই দেখবো।”

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত যোগীপোল ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর রাজু আহমেদ রাজীব বলেন, “সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে প্রচ- ঘূর্ণিঝড়ে নিমিষেই দু’টি ঘরের টিন উড়ে যায়। ঘরের চালে মাত্র ৫/৬টি টিন আছে। বাকি সব উড়ে গেছে। অনেকের ঘরের কোনও টিন নেই। উড়িয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। দুশ্চিন্তায় আছি গরিব মানুষ কী করে আবার টিন লাগাবো।”

যোগীপোল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষিজীবী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “আমার দু’টি ঘরের সব টিন উড়াই নিয়ে গেছে। স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করতে হবে। বৃষ্টি হলে কী করব সেই দুশ্চিন্তায় আছি। গরিব মানুষ কীভাবে টিনের ব্যবস্থা করব? ঘূর্ণিঝড় শুধুমাত্র আমাদের এই এলাকা দিয়ে গেছে।”

স্থানীয়রা জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে যোগীপোল ৮ নং ওয়ার্ডের ২৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ পরিবারের বসতঘর এবং রান্না ঘরের টিন উড়ে গেছে। কোন পরিবারের আংশিক আবার কোন পরিবারের পুরাটাই।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ভৈরব নদীর তিন সংলগ্ন এলাকা, মধ্যপাড়া, গাজীপাড়া এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিদ্যুতের খুঁটি, মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়েছে। ভেঙে পড়েছে মাটির ঘর।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন