বিক্রেতা ও সরবরাহকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

দিঘলিয়ায় হাত বাড়ালেই মাদক আসক্ত হচ্ছে তরুণ ও যুবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীবেষ্টিত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দিঘলিয়ায় মাদকের ভয়াবহতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রামের অলিগলি, পাড়া মহল্লা, হাট বাজার, খেয়াঘাট, গুচ্ছগ্রাম, কলোনি সর্বত্র ছেয়ে গেছে মাদকে। পেশাদার মাদক-সেবীদের পাশাপাশি উঠতি বয়সী তরুণ, যুবক, বখাটে, স্কুল-কলেজের ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সর্বনাশা মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়েছে। নিত্য পণ্যের মতো মাদকও এ জনপদে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ইচ্ছা করলেই হাতের কাছে মিলছে মাদক। কীভাবে, কোথা থেকে, কারা এ মাদক সরবরাহ করছে বরাবরই তা অজানা রয়ে যাচ্ছে।

একাধীক সূত্র জানায়, মাদক কারবারিদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সহযোগিতাকারীরা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের বাইরে।

মাদক নিয়ে থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স, সুধী সমাবেশে, মতবিনিময়, জনসচেতনতামূলক মানববন্ধন, মোটরসাইকেল র‌্যালি করলেও কোনো কিছুই কাজে আসছে না। এমন কি এর ভয়াবহতা রোধে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা দৃশ্যমান নয় বলে এলাকাবাসী অভিযোগ। গত ২৫ জুন চন্দনী মহল গ্রামের জনৈক ব্যক্তি তার এলাকার ১৭ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।

এদিকে মাদকের ভয়াবহতা রোধে উপজেলা প্রশাসন নড়ে চড়ে বসেছে। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় জুলাই মাসব্যাপী চলবে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সভা ও অভিযান।

এলাকাবাসী জানায়, নগরীর দৌলতপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন মুহসিন মোড় পুরাতন স্টিমার খেয়াঘাট, দেয়াড়া কলোনি খেয়াঘাটসহ অন্যান্য যে খেয়াঘাটগুলো রয়েছে মূলত সে ঘাটগুলো মাদক সরবরাহের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

দৌলতপুর খেয়াঘাট, সেনহাটি শিববাড়ি, কলের পুকুর, সরিষাপাড়া, পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন, সাবুতলা, কলেজ সংলগ্ন এলাকা, বকশীবাড়ি, পার্ক সংলগ্ন এলাকা, লুৎফরের বটতলা, নির্মাণাধীন সুগন্ধি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকা, পথের বাজারসহ স্কুল কলেজ সংলগ্ন এলাকা, হাজীগ্রামের গুচ্ছগ্রাম, স্টেডিয়াম, মোমিনপুর, বাসুয়ারমার খেয়াঘাট, বার্মাশীল খেয়াঘাট, গোলারঘাট, পানিগাতী গ্রামের বিভিন্ন এলাকা, সুধীরকূল, নগরঘাট, ফেরিঘাট, দিঘলিয়ার তেতুলতলা, মোড়ল মার্কেট, মহেশ্বরপুর, ক্যাবল খেয়াঘাট, বারাকপুর সন্ন্যাসী বাজার, লাখোয়াটি, কামারগাতী খেয়াঘাট, লক্ষীকাটি, মজুদখালী,আড়ুয়া খেয়াঘাট, আমবাড়ীয়া, গাজীরহাট বাজার, কোলাবাজার, মোল্লাডাঙ্গা, কাঁটাবন, স্টার ১ ও ২ নং গেট সংলগ্ন এলাকা, বোগদিয়া, দেয়াড়া পূর্ব পাড়া, বাতিভিটা গ্রামের বিভিন্ন এলাকাসহ গ্রামের পাড়া মহল্লা, নদীর পাড়, ঘেরের পাড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল সেবনসহ কেনা-বেচা চলছে।

দিঘলিয়া থানার ওসি তদন্ত প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামের পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে সর্বত্র নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা চচ্ছে। মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স। যার কাছে মাদক পাওয়া যাবে তাকে এই আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত খুলনা গেজেটকে বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা ডিক্লারেশন দিয়েছি কারবারিরা মাদক ছাড়বে না হয় এলাকা ছাড়বে। ২৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে পুরো জুলাই মাস মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সভা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আজ দুপুরেও আসামি ধরে জেলে পাঠিয়েছি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের তৎপরতা বাড়াবে বলে বলেছে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন