খুলনা-মোংলার রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও দুইটি ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে একটি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে যোগাযোগ সাধনের জন্য নতুন একটি কমিউটার ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুইটি ট্রেন চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন ঘটবে।
খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন খুলনা গেজেটকে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে খুলনা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালু করার বিষয়টি। দুই-এক মাসের মধ্যে হয়তো এই রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়ে যাবে। এমন একটি প্রস্তাবনার কাগজ পেয়েছি। বর্তমানে জাহানাবাদ ট্রেন দিয়ে আসলে যাত্রীদের চাহিদা মেটানো কষ্টকর। এ জন্য আরও একটি ট্রেন প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ খুলনা গেজেটকে বলেন, খুলনা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, সেখানে বিভিন্ন রুট প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রস্তাবনা রয়েছে। ফলে আন্তঃনগর ও কমিউটার দুইটি ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনটি ঢাকা-খুলনা, বেনাপোল-ঢাকাসহ কয়েকটি রুট আমরা প্রস্তাব করেছি। যেটাই হোক এটি ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। এটি চালুর বিষয়টি নির্ভর করবে নতুন কোচ আসার উপরে। আমরা আশা করছি নতুন কোচ দুই-এক মাসের মধ্যেই পাব। আর ব্রডগেজ ইঞ্জিন আমাদের রয়েছে।
এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) চিফ কমার্সিয়াল ম্যানেজার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরের ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান তিন বছরের জন্য এই ট্রেন দুটি পরিচালনার কার্যাদেশ পেয়েছিল। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ট্রেন দুটি পরিচালনা শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, বেতনা কমিউটার (৫৩/৫৪) এবং মোংলা কমিউটার (৯৫/৯৬) ট্রেন দুটি দুই জোড়া হিসেবে চলাচল করছিল। তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া ও সরকারি কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া পরিশোধ না করায় চুক্তির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। মাত্র ৩ মাস ১৭ দিন পরিচালনার পর ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পর ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ট্রেন পরিচালনা করে।
বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী, চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে গেলে ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী। বেশিরভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ রুটে ভারতে যাতায়াত করেন। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন বলেন, খুলনা-বেনাপোল ও বেনাপোল-মোংলা রুটের কমিউটার ট্রেনের বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেখানে চুক্তি বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা হবে বলে জানানো হয়। গত বুধবার থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচল করছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, বেতনা কমিউটার ও মোংলা কমিউটারের চুক্তিতে বেসরকারি যারা ছিল তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এখন রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

