শনিবার । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩

কপিলমুনিতে প্রতিবন্ধীর জমি দখল!

বিশেষ প্রতিনিধি

আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন, নালিশি সম্পত্তি দখলে বারবার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, সন্ত্রাসী হামলা এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেও বহাল তবিয়াতে রয়েছে সমাজবিরোধীচক্র। পাইকগাছার এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নালিশি জমিতে সমাজবিরোধী, প্রভাবশালী এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে আবারও ইটের গাঁথুনি ও টিনের বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার কপিলমুনি বাজার সংলগ্ন অধিকারী পাড়া নামক স্থানে।

এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারীর আত্মীয় পরিচয়ে স্থানীয় ভূমিদস্যু উত্তম অধিকারী ও বসুদাম অধিকারী দলবল নিয়ে বিভিন্ন সময় কয়েক দফা সশস্ত্র হামলা ও প্রতিবন্ধী অজয় কুমার দে এর বসতভিটা ভাঙচুর করে। এমনকি পরিবারের নারী সদস্যদের উপর নগ্ন হামলা এবং জীবননাশের হুমকির ঘটনায় একাধিকবার থানায় সাধারণ ডায়েরি সহ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী অজয় দে। দলীয় প্রভাব, পেশিশক্তি ও অর্থের দাপটে অজয় দে বারবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জুলাই পরবর্তী অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও উত্তম ও বসুদাম অর্থের প্রভাবে স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে বীরদর্পে তাদের তা-ব চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উত্তম ও বসুদাম গং নতুন করে প্রতিবন্ধীর জমি দখলের পরিকল্পনা করে। ঘটনা জানাজানি হলে অজয় দে তার নালিশি সম্পত্তি কপিলমুনি এসএ ১৬২, বিআরএস ৯০ ও ৯২ দাগে খরিদ, দানপত্র এবং ওয়ারিশ সূত্রে মোট ০.৩৪ শতক জমি, যা বিআরএস জরিপে ২৪.৮০ শতক রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

পক্ষান্তরে, উত্তম ও বসুদাম গং এর বসতভিটা যার দাগ নম্বর ১৭৮। প্রতিবন্ধী অজয় দে’র পার্শ্ববর্তী ভিন্ন দাগের জমির মালিক হয়েও উত্তম ও বসুদাম বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ১৬২ দাগ দখলের চেষ্টা করে। এই ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে অজয় দে এমআর মামলা করে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১৯ নভেম্বর’২৫ এমআর ২২৭/২৫ কেসের তদন্ত করে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। বাদীর দখলে থাকা নালিশি সম্পত্তির মামলা নিষ্পত্তির পূর্বেই সমাজবিরোধী উত্তম ও বসুদাম গং জোরপূর্বক ১৪৪ ধারার আদেশ ভঙ্গ করে কিছু অংশে ইটের গাঁথুনি ও টিনের বেড়া নির্মাণ করেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি দখলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

এই ঘটনার পর থেকে নিজের জীবন ও পরিবার নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী অজয় দে। পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ সোহরাব হোসেন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উত্তম অধিকারী বলেন, ‘যে জমিতে বেড়া দিয়েছি এটা আমার নয়, তবে অজয় দে এর বাড়ির ভেতর আমাদের জমি রয়েছে।’

অজয় দে জানান, ‘প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়। দলীয় ক্ষমতা ও অর্থের জোরে তারা বারবার আমার জমি দখলের চেষ্টা করে। বিভিন্ন সময় আমার ও আমার পরিবারের সদস্যকে মারপিট করে এবং জীবননাশের হুমকি দেয়।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তার জমিতে মাটি ও বালি ভরাট করায় মূল্য বেড়েছে, এতে তার প্রতিবেশী উত্তম অধিকারী ও বাসুদেব অধিকারী গং এর নতুন করে নজর পড়ে আমার জমির উপর। তারা জমির সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করেই তার জমির একটি অংশ দখল করে প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতোপূর্বে ২০২২ সালে ১১ নভেম্বর একইভাবে আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে মারপিট করেছিল। সরকারের পট পরিবর্তন হলেও এক অদৃশ্য কারণে আবারও তারা জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে।’

ভুক্তভোগী অসহায় প্রতিবন্ধী অজয় দে এর দাব, আদালতের নির্দেশ অমান্য কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তিনি অবৈধ বেড়া উচ্ছেদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন