খুলনার পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের লাইন ছোট হয়ে আসছে। গতকাল শুক্রবার ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। চালকরা বলছেন তেল নিতে এসে আগের তুলনায় কম সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ভোগান্তি থাকবেনা। ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে তেলের সংকট দেখা দেয়।
মোটরযানগুলোতে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ভোর থেকে চালকরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দিত। সকালে এসে তেল নিতে গিয়ে রাতও হয়েছে অনেকের। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে পাম্পের সামনে এসে তেল শেষ হয়ে গেছে এমন সংবাদে হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছে বাইকাররা। তেল নিতে গিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
গত কয়েকদিন আগে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পর ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের মতো ভিড় দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর কেসিসি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় প্রবেশ পথের দু’পাশে বাঁশ দিয়ে মোটরবাইক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ভেতরে তখন ২০-২২ টি মোটরসাইকেল দেখা যায়। সেখানে কথা হয় পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার উদয় কুমারের সাথে।
তিনি বলেন, ‘এ মাসের শুরু থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। তেল নিতে গিয়ে পাম্পের সামনে এসে কর্তৃপক্ষ জানায় তেল শেষ হয়ে গেছে। আগে ৩০০ টাকার বেশি তেল দিত না। আজ সকালে এসে স্বাভাবিক সময়ের মতো ৫০০ টাকার তেল পেয়েছি কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই।’
একই পাম্পে কথা হয় মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ানোর পর এমন কি হলো যে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হল। তীব্র সংকট কেটে গেল। আদৌও সংকটের ঘটনা সত্য কী না; নাকি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ ছিলো সরকারের।’
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘নিত্য পণ্যের দাম বাড়ে ঠিকই কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। মানুষের কাছে টাকা না থাকলে তেল কিনবে কীভাবে। দাম বৃদ্ধি করা কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ মেট্রোপলিটন পাম্পে কথা হয় রবিউল ইসলামের সাথে।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার ৮০ টাকার পেট্রোল একলাফে ১২৫ টাকা করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা কমিয়ে ১১৬ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমান সরকার পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের কথা কেউ ভাবে না। যে ক্ষমতায় আসে সেই নিজের কথা ভাবে। জ¦ালানির দাম বৃদ্ধির সাথে বেড়েছে বাড়িভাড়া।’
লখপুর আল আরাফা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় আবু শাহাদাৎ রানির সাথে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সাথে সবকিছুই সম্পর্কযুক্ত। তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সব কিছুরই দাম বেড়ে যাবে।’
মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘৮০ শতাংশ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ডিপো থেকে তেল আগের মতোই দিচ্ছে। তেল ডিপো থেকে দিলে পাম্পে লাইন আর থাকবে না।’

