‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের মিশন ব্যর্থ হয়েছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওসাকার। গত সোমবার দৈনিক খুলনা গেজেট-এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ ও অনিয়মের অভিযোগে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান ওইদিনই ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ।
প্রশাসনের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এর আওতায় পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য সামগ্রী সরবরাহে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন। উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত খাদ্য সামগ্রী গুণগত মান যাচাই করে এ সত্যতা মিলেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, পাবনা জেলার ওসাকা নামক একটি সংস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োগ পেয়েছে। উক্ত মিড ডে মিলের আওতায় বনরুটি, সিদ্ধডিম, ইউ এইচটিদুধ, ফর্টিফাইভ বিস্কুট, স্থানীয় মৌসুমী ফল প্রদানের কথা থাকলেও ফর্টিফাইভ বিস্কুট এখনো দেওয়া হয়নি এবং স্থানীয় মৌসুমি ফলের আওতায় শুধুমাত্র কলা দেওয়া হয়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৬০টি সরবরাহকৃত বনরুটির মধ্যে ২৩২টি ছত্রাকযুক্ত যেগুলো শিশুদের খাবার অনুপযোগী। এছাড়া একাধিক বিদ্যালয়ে তদন্তে ডিম ময়লাযুক্ত, নষ্ট, দুর্গন্ধ। কিছু রুটি ছত্রাক যুক্ত। অনেক স্কুলে পাকা কলার পরিবর্তে কাঁচা কলা সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফিডিং কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহকৃত খাদ্য তালিকায় থাকা বনরুটির কোনোটি মেয়াদ উত্তীর্ণ, কোনটাতে আবার নেই মেয়াদের দিন তারিখ।
জানা গেছে, উপজেলা স্কুল ফিডিং কর্মসূচী গত ১৭ নভেম্বর হতে শুরু হয়। তবে সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র আকিজ কোঃ দুধ সরবরাহ করত। গত ১ এপ্রিল হতে কলা, বনরুটি ও ডিম সরবরাহ করে আসছে। তবে শুরু থেকেই খাবারের ওজন ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যা বিভিন্ন সময় খাদ্য সরবরাহকারী-প্রাতিষ্ঠানকে আবহিত করে উপজেলা শিক্ষা অফিস। বিষয়টি গত ১১ এপ্রিল স্থানীয় সরবরাহকারী মোঃ মাহাদী হাসান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওসাকা এনজিওর দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ একযোগে নিম্ন মানের খাবার সরববাহ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বেশীলরা সত্যতা স্বীকার করেন এবং আগামীতে এমনটা হবে না মর্মে ১৬৭ জন প্রধান শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন। এরপরও গত ২০ এপ্রিল কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিপরীতে বরাদ্ধকৃত ৪৬০ প্যাকেট বনরুটি সরবরাহ করেন। যার ২৩২ প্যাকেটে রুটিতে কম বেশি ছত্রাক ধরে পড়ে। তাৎক্ষনিক প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান রুটি বিতরণ বন্ধ করেন এবং শিক্ষা কর্মকর্তা ভুধর চন্দ্র সানাকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন।
এ ঘটনা শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের অবহিত করলে অভিভাবকরা ঠিকাদারের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

