পদ্মার এপারের সোয়া তিন কোটি মানুষের ডায়রিয়ায় আক্রান্তসহ ছয়টি সংক্রমণ রোগের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল খুলনার মীরেরডাঙ্গায় অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে মূলত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরাই চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। হামের ন্যায় এ বছর খুলনাঞ্চলে ডায়রিয়া এবং জলবসন্তের প্রকোপও মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। গত বছর মার্চ পর্যন্ত খুলনার মিরেরডাঙ্গা সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৪৮ জন। অথচ গতকাল শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৬২৯ জন।
গত বছর জলবসন্ত (চিকেনপক্স) এ আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮ জন। এ বছর শনিবার পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৯ জন। ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও আক্রান্ত রোগীর জন্য অপরিহার্য কোনো ইন্টারভেনাস আইবি স্যালাইন হাসপাতালে নেই। হাসপাতালটিতে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় পাঁচ বছরের নিচে ডায়রিয়া, হাম, জলবসন্ত কিংবা জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালটিতে জলাতঙ্ক রোগের কোনো ভ্যাকসিনও বরাদ্দ দেওয়া হয় না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে দুই হাজার স্যালাইন বরাদ্দ দেয়া হয়। যেগুলোর স্টক গত ২২ মার্চ শেষ হয়। এরপর চাহিদা দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ মেলেনি এখন পর্যন্ত। একই সাথে রোগীদের স্যালাইন পুশ করার জন্য ক্যানোলা, তুলা এবং মাইক্রোপোরেরও স্টক শেষ।
গত দশ বছরের ভিতর এই প্রথম হাসপাতালে স্যালাইন সংকট দেখা দিল। স্যালাইন না থাকায় রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত মূল্যে স্যালাইন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করতে হচ্ছে। গত বছর হাসপাতালটি সরকারিভাবে ২০ হাজার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। এছাড়া হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে জল বসন্তের এন্টিভাইরাল ইনজেকশন এবং ওষুধও নেই বলে জানা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে মাত্র তিনজন চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। যেটি পদ্মার এপারের একমাত্র সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ৯ এপ্রিল থেকে ৬জন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক জানান, ‘হামের ন্যায় এবছর ডায়রিয়া এবং জল বসন্তের প্রকোপও বেশি। হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া, হাম, জলবসন্ত, টিটিনাস, জলাতঙ্ক এ ৬টি রোগের নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন শুরু থেকে এখানে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। জলবসন্তের কোনো এন্টিভাইরাল ইনজেকশন বা ওষুধ দীর্ঘদিন থেকে নেই। টিটিনাস রোগের ওষুধ পর্যাপ্ত রয়েছে। ডায়রিয়া রোগের স্যালাইন ছাড়া বাকি সব ওষুধ পর্যাপ্ত রয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ডিহাইড্রেশনের উপর নির্ভর করে কী পরিমাণ স্যালাইন তার প্রয়োজন। এর উপর নির্ভর করে রোগীদের স্যালাইন দেয়া হয়। একজন রোগীকে সর্বোচ্চ পাঁচটা কিংবা প্রয়োজনে তার অধিকও স্যালাইন দেওয়া হয়। ভর্তিকৃত রোগী ছাড়াও হাসপাতালটি থেকে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে।
মার্চের ২২ তারিখ থেকে স্যালাইন, ক্যানোলা, তুলা মাইক্রোপোর, নেই। প্রতিবছর মার্চে থেকে জুন ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ শুরু হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডায়রিয়া এবং জলবসন্তের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। শীতের সময়ও কোল্ড ডায়রিয়া দেখা দেয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

