মুক্তিযুদ্ধে খুলনা আইনজীবীদের ভূমিকা ইতিহাস খ্যাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার (১১ এপ্রিল) আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম অবিলম্বে বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জাতির সামনে হাজির করতে হবে। অমুক্তিযোদ্ধারা অনৈতিক সুযোগ নিতে অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নিজের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এরাই জাতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। বক্তারা বলেছেন যুদ্ধকে সংগঠিত করতে এবং ছাত্র সমাজ রণাঙ্গনে ভূমিকা রাখায় স্থানীয় আইনজীবীদের ভূমিকাই ছিল গুরুত্বের।

স্থানীয় গোল্ডেন কিং ভবনে মুক্তিযুদ্ধে খুলনার আইনজীবী সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি তোলেন। বক্তারা গর্বের সাথে খুলনার তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে আইন পেশার সাথে সম্পৃক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ত্যাগ জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। এখানকার মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য শেখ কামরুজ্জামান টুকু ও স ম বাবর আলী সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ইতিহাসের পাতায় যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে আছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ, খুলনা এ আলোচনা সভার আয়োজক। প্রবন্ধকার এ সংগঠনের সদস্য সচিব ও খুলনা গেজেটের নির্বাহী সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান বাবু।

সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক ও খুলনা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ খান মনিরুজ্জামান। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক মেয়র ও নগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুজ্জামান মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আব্দুল মালেক। স্মৃতিচারণ ও প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আ ব ম নুরুল আলম, এ্যাডঃ এস এম মনজুর আহমদ, এ্যাডঃ মোঃ মোমিনুল ইসলাম, এ্যাডঃ অচিন্ত কুমার দাস, এ্যাডঃ জোবায়ের শেখ ও সিরাজ উদ্দিন সেন্টু। কোরআন তেলাওয়াত করেন শেখ বাবর আলী। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবীদের ফুলেল সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এস এম দাউদ ইসলাম, প্রাণি প্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন, এ্যাডঃ মির্জা নুরুজ্জামান, সরদার আবু তাহের, শেখ আইনুল হক, এ্যাড. শেখ আজিজুর রহমান, মোঃ জামাল মোড়ল, এস ্এম আবু হারুনার রশিদ, এম এম হাসান, শেখ আব্দুল আহাদ, সুলতানা পারভীন চুমকি, এ্যাডঃ মোঃ আলমগীর হোসেন খান, এ্যাডঃ হেলাল উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, খান ছাব্বির হাসান অনিক, মোহাম্মদুল্লাহ সাদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তীতে আইন পেশার সাথে সম্পৃক্তরা হচ্ছেন স ম বাবর আলী, ইস্কান্দার কবীর বাচ্চু, কাজী আব্দুস সালাম, কাজী হারুন অর রশিদ, গাজী আব্দুল বারী, আব্দুল মালেক, আ ফ ম মহসীন, সৈয়দ শহীদুল আলম, প্রয়াত চিশতী সোহরাব হোসেন শিকদার, হরেন্দ্র নাথ মন্ডল, আব্দুস সবুর মোল্লা, গোলাম সরোয়ার মল্লিক, আ ব ম নুরুল আলম, জিএম কেরামত আলী, এমএম মুজিবুর রহমান, প্রয়াত আব্দুস সাত্তার শেখ, প্রয়াত আবুল কালাম আজাদ, মো: কামরুল আহসান, শেখ মোহাম্মাদ আলী, সিদ্দিকুর রহমান, শেখ মো: আব্দুর রশীদ, প্রয়াত শাহনেওয়াজ দিলু, এস এম হেমায়েতুল ইসলাম, সরদার জাহাঙ্গীর আলম, এস এম নাসিরউদ্দিন আহম্মদ, প্রয়াত এম ফিরোজ আহমেদ, স ম ইউসুফ, রবিউল ইসলাম তরফদার, স্বর্গীয় মনোরঞ্জন দাস, সেখ মোহাম্মদ আলী অসিত কুমার হাওলাদার, খান মনিরুজ্জামান, আব্দুল হালিম মোল্লা, স ম আলাউদ্দিন। মুক্তিযোদ্ধার পরে তৎকালীন সরকার সত্তরেরর জাতীয় পরিষদ সদস্য এ্যাড. শেখ আব্দুল আজিজ, এ্যাড. সালাউদ্দিন ইউসুফ, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এ্যাড. মোঃ এনায়েত আলি সানা, এ্যাড. মোমিন উদ্দিন আহম্মেদকে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দেন। একাত্তরে খুলনার শহীদ আইনজীবীরা হচ্ছেন জেলা ন্যাপের সভাপতি এ্যাডঃ আব্দুল জব্বার সরদার, এ্যাডঃ নকুলেশ^র চক্রবর্তী, আইয়ুব আলী ও গোলাম সাঈদ মোক্তার।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন