দীর্ঘদিন ধরে বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের সুন্দরমহল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। অবশেষে সুন্দরমহল এলাকায় ২৯ নং পোল্ডারের আওতাধীন পাউবো’র জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ পাকা স্থাপনা উচ্ছেদে নামতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ অভিযানে বুলডোজারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাকা ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একসময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যে-সব স্থাপনা নির্মাণ চলছিল, সেগুলিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের উপস্থিতিতে।
পাউবো জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি দখলদারদের লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘পোল্ডারের অধীন সুন্দরমহল মৌজায় এলএ কেস নং- ৫৯/৬৭-৬৮-এর মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত এসএ দাগ নং ১০০, ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১২১ ও ১২২-এর জমিতে অনুমতি ছাড়াই পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।’
নোটিশ অনুযায়ী, ‘উক্ত জমি বিআরএস জরিপে ৯৩, ০৯৫ ও ৩৮১/৫৭৮ নং দাগের ২ নং খতিয়ানভুক্ত এবং সম্পূর্ণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন সরকারি সম্পত্তি। মৌখিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণ অব্যাহত রাখায় বিষয়টি সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের শামিল এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।’
স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠে এই অবৈধ স্থাপনা। নোটিশের ৭ দিনের সময়সীমা শেষ হলেও দখলকারীরা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত যৌথ অভিযানে পাকা ভবনসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
বটিয়াঘাটা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, ‘পোল্ডার ও বাঁধ রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ দখল বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা করার কোনো সুযোগ নেই। সকল উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া হলে পোল্ডার এলাকায় দীর্ঘদিনের দখল, ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হতো না। তারা দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
খুলনা গেজেট / এম এন এস

