শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

ভিসেরা রিপোর্টে সাংবাদিক বুলু’র আত্মহত্যার আলামত, শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু নিজেই রূপসার খানজাহান আলী সেতু থেকে স্বেচ্ছায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ভিসেরা রিপোর্টে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।’ তদন্তের দায়িত্বে থাকা খুলনা নৌ পুলিশ এমন তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছর ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় রূপসা সেতুর দুই নম্বর পিলারের পাইলক্যাপের ওপর থেকে সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুলুর ভাই আনিসুজ্জামান দুলু নগরীর লবণচরা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপসা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ওই রিপোর্টে আত্মহত্যার আলামত মিলেছে। আগামী সপ্তাহে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চলের সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, মামলা তদন্তকালে রূপসা সেতুর উপর থাকা দু’টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাংবাদিক বুলু ৩১ আগস্ট দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নিজেই সেতুর উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়েন। এ সময় নদীতে না পড়ে সরাসরি তিনি কংক্রিটের পাইলক্যাপের ওপর পড়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু থেকে পড়ায় তাঁর চোয়াল, হাত ও পা ভেঙে যায়। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। রিপোর্টে হত্যা বা খাবারে সাথে কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক বুলু দৈনিক বঙ্গবাণী, আজকের কাগজ, চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি ও দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুলুর স্ত্রী এলিজা পারভীন লিজা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গত ১১ মে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বুলু। পরে তানিয়া সুলতানা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। আর্থিকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও মনোমালিন্য চলছিল তাঁর।

পিবিআই খুলনার পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, “গত ৩০ জুলাই সাংবাদিক বুলুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩ নম্বর আদালতে মামলা করেন তানিয়া সুলতানা। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২৬ আগস্ট তানিয়া পিবিআই কার্যালয়ে এসে দু’জনের মধ্যে মীমাংসার আপোষনামা জমা দিয়ে যান।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন