খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ১১ জনের মনোনয়ন। নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি-জামায়াতসহ ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত চার দিন খুলনা জেলা আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আবু সাঈদ, বিএনপি’র আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় ও জাতীয় পার্টির মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।
খুলনা-২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। গতকাল রবিবার যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিসের মোঃ শহিদুল ইসলাম।
খুলনা-৩ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আঃ আউয়াল, বিএনপি’র রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ. এম. হারুন অর রশিদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)’র শেখ আরমান হোসেন এবং জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন আব্দুল রউফ মোল্লা, মোঃ আবুল হাসনাত সিদ্দিক ও এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু।
খুলনা-৪ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বিএনপির এস. কে. আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস. এম. সাখাওয়াত হোসাইন এবং জামায়াতে ইসলামীর মোঃ কবিরুল ইসলাম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা-৫ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার এবং খেলাফত মজলিসের মোঃ আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার। এ আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানের এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির এস. এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আছাদুল্লাহ ফকির এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। এ আসনে জাতীয় পার্টির মোঃ মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আছাদুল বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
