Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

‘মেয়ের বায়নাতে ইলিশ কিনেছিলাম বছর দুই আগে, এখন শুধু ডালিতে সাজানো দেখি’

আয়শা আক্তার জ্যোতি

ইলিশ তো এখন শুধু বাজারের দোকানেই সাজানো থাকে। কিন্তু কিনে খাওয়া হয় না। দুই বছর আগে ছোট মেয়েটা বায়না ধরেছিল। সাড়ে ৫০০ টাকা দিয়ে চারটা ঝাটকা ইলিশ কিনেছিলাম। এরপর আর কেনা হয়নি। এখন বাজারে যাই শুধু দূর থেকে দেখি। যখন অন্যরা বাজার করে ফিরে যায়, তখন তাদের মুখে গল্প শুনি। কেনা আর হয়ে ওঠে না। এভাবেই খুলনা গেজেটকে কথাগুলো বলছিলেন খুলনার নিউমার্কেট কাঁচা বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সা চালক জালাল।

ষাটোর্ধ বয়সী জালাল বলেন, সারাদিন রিক্সা চালিয়ে শেষে যে কয়টা টাকা হাতে আসে, সেই টাকা দিয়েই পাঁচজনের সংসার চালাতে হয়। ঘরভাড়া, বাজার-সদাই, দুই মেয়ে আর ছেলের খরচ-সব মিলিয়ে মাস পার করতে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে ইলিশ মাছ কিনে খাওয়ার মতো বাড়তি পয়সা কই।

নগরীর নিউমার্কেট ও ময়লাপোতা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজির উপরে ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে, কেজির নিচে ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে এবং ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা, ৪০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেট বাজার করতে আসা মাসুমা লিমা খুলনা গেজেটকে বলেন, “ভরা মৌসুমেও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশের দাম। তাই স্বাদ থাকলেও এখনো মুখে তোলা হয়নি মাছটি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে সাধ্যের মধ্যে বাজার সামলানোই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “নদীর একটু বড় ইলিশ বছরে এক-দু’বার খেতে পারি। কিন্তু সেটাও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। সিজেনের সময়ও যদি এমন দাম থাকে, তাহলে আমরা খাবো কীভাবে? এখন ফেসবুকে ছবি দেখেই স্বাদ মেটাতে হচ্ছে।”

ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের সাড়া মিলছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নিউমার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী বাদশা মোড়ল বলেন, “এখনকার বাজারে মাছের যে দাম, তাতে দোকানে মাছ তোলা আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা আগের মতো আর আসেন না। সারাদিন বসে থেকেও হাতে গোনা কয়েকটি মাছ বিক্রি হয়। সেই টাকায় মাছ কেনার খরচ, দোকান পর্যন্ত আনা-নেওয়ার ভাড়া আর কর্মচারীর বেতন মিটিয়ে কিছুই হাতে থাকে না। অথচ আমাদের সংসার চলে মাছ বিক্রি করে। মৌসুমের সময়টাতেও আগের মতো লাভ হয় না, দুই-চারটি মাছ বিক্রি করেও তেমন লাভ থাকে না। এভাবে দিন চালানো কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।”

মাছ ব্যবসায়ী প্রান্ত বলেন, “সারাদিনে পাঁচ-সাত জন ক্রেতা এলেও দুই-একজন দাম শুনে চলে যান। ফলে ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অনেক সময় মাছ দুই-চারদিনের বেশি দোকানে পড়ে থাকে, তখন বাধ্য হয়ে কেনা দামে বা তার চেয়ে কমে বিক্রি করতে হয়। সব মিলিয়ে এখন বাজারে ইলিশের ব্যবসা করা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন