খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কের নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘খুলনা নাগরিক সমাজ’। বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় নির্মাণাধীন শিপইয়ার্ড সড়কস্থ দাদা ম্যাচ কোম্পানীর সামনে রাজপথে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শিপইয়ার্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে কোনো সমাধান নেওয়া হয়নি। পরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) এর উদ্যোগে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৩ সালে একনেক ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়।
তিনি জানান, সড়কটি খুলনা মহানগরীর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এ প্রকল্প অনুমোদনের পর নগরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে তা আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে গেছে এক বছরেরও বেশি। কেডিএ দাবি করছে, কাজের ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে; কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা কাজ করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটখোয়া ফেলে রাখা, বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে তাতে পানি জমা, সড়কের দুইপাশ খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রোড ডিভাইডার, ড্রেন, ফুটপাথ, লবণচরা সেতু, মতিয়াখালী স্লুইসগেট ও কালভার্টসহ মূল কাজগুলো এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
এ অবস্থায় শুধু মানুষের ভোগান্তি নয়, এ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে, প্রতিবছর শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ স্থবিরতায় ভুগছে।
বাবুল হাওলাদার বলেন, “ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি শুধু সহজ ও লাভজনক কাজ করে প্রায় ৭০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এত বড় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, ব্যয় বৃদ্ধি ও কাজ সম্পন্ন না করার পরও কেন তাদেরকে এই টাকা দেওয়া হলো এবং কেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলো না—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তিনি আরও বলেন, শিপইয়ার্ড সড়ক এখন চাষাবাদের জমিতে পরিণত হয়েছে। নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করতে হবে, সীমাহীন ধীরগতি ও অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে সড়কের কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে এ দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে আহ্বান জানানো হয়। খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা গেজেট/এসএস