আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ—৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে এ আসনে বিএনপির পরিবর্তে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের প্রার্থী হওয়ার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক প্রকাশ্যে কান ধরে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে এ ঘোষণা দিতে দেখা যায়।
ভিডিও বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি কান ধরে রাজনীতি ছাড়ছি। এই আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও হামিদুল ইসলাম হামিদের যে কোনো একজনের সমর্থক হিসেবে কাজ করতাম। তাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় আমি বিএনপি ত্যাগ করছি। গত ১৭ বছর যারা কালীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি ধরে রেখেছে, তাদের মনোনয়ন না দেওয়া হলে আর রাজনীতি করব না।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ঝিনাইদহ—৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার রাত ২টা ১৬ মিনিটে মুঠোফোনে রাশেদ খাঁন নিজেই এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এই আসনে অবশ্যই বিএনপির স্থানীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দিতে হবে।
কালীগঞ্জ থানা রোডে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, রাশেদ খাঁন এই আসনের স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং তিনি এখানকার ভোটারও নন। দলীয় রাজনীতিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে একজন বহিরাগতকে চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিএনপির কর্মী তাজু জোয়ারদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সঙ্গে আন্দোলন—সংগ্রাম করেছি। আজ একজন বহিরাগতকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
খুলনা গেজেট/এমআর
