রানার সম্পাদক মুকুল হত্যার বিচার ২৮ বছরে শেষ হয়নি, যশোরে আজ নানা আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

দীর্ঘ ২৮ বছরেও যশোরের আলোচিত দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুল হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়নি। বরং গত ১৬ বছর ধরে উচ্চ আদালতে আইনের জালে বন্দি হয়ে আছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কার্যক্রম। ফলে মুকুল হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আইনের বেড়াজালে রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আইনজীবীরা বলছেন, যে রিটের কারণে উচ্চ আদালতে মামলাটি আটকে আছে, তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব নয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ২৮ বছর অতিবাহিত হলেও কোনো বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ সাইফুল আলম মুকুলের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। এ অবস্থায় ৩০ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সাংবাদিক মুকুলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চার খাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দু’জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (৩) এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এ সময় মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, নিম্ন আদালতে মুকুল হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু হাইকোর্টে এক আসামির আবেদনের কারণে মামলাটির আর্গুমেন্ট শুরু করা সম্ভব যায়নি। হাইকোর্টে আবেদনের নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার বিচারকাজ শেষ হবে।

এ অবস্থায় আজ রবিবার পালিত হচ্ছে শহীদ সাংবাদিক সাইফুল আলমের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোকর‌্যালি, শহিদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন