জীবন বাঁচাতে এসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। ফলে যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে জীবন ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা। ১৯৭০ সালে স্থাপিত এ হাসপাতালটিতে প্রায় আট বছর পর ৩১ শয্যা দিয়ে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখনও পরিচালিত হচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনেই। বর্তমানে চার উপজেলার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। জানা গেছে, ২০২০ সালে জেলা স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এবং অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শন করেন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় এখনও একই ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গাদাগাদি করে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রবেশদ্বারের সিলিংয়ে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়ে অংশবিশেষ ভেঙে পড়েছে। মূল ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। ছাদের টেম্পার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেয়াল ও পিলারেও ফাটল দেখা গেছে। দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি সংলগ্ন পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড এবং স্টাফ রুমের সিলিং থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে শিশু ওয়ার্ড। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে এসে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। গুয়া খোলা থেকে তার সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা শাপলা জানান, ভাঙাচোরা ছাদের নিচে আতঙ্কে সময় কাটাতে হয়।
চেনুটিয়া গ্রামের শিশু সামিয়ার আম্মু সালেহা বেগম জানান, প্রায়ই সিলিং খসে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসা নিতে এসে দু-দিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে আছি খুবই দুশ্চিন্তা নিয়ে। অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন রোগীদের নিরাপদ রাখতে বেড পরিবর্তন করতে হয়। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ঘটনাগুলো এ আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজিব বলেন, “ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর থেকেই নতুন ভবনের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ চার বছরেও নতুন ভবনের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় দুই বছর আগে পুরোনো ভবন সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু সেটিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

