যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও যুবলীগের আলোচিত ক্যাডার আরিফের বাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে আগ্নেয়াঅস্ত্র ও মদসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের আগেই পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত আরিফ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি সংলগ্ন আরিফের বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার হয়, দু’টি বিদেশি পিস্তল, দু’টি ম্যাগজিন, একটি গুলি, দু’টি চাপাতি, দু’টি চাকু, একটি টেলিস্কোপ, এক বক্স এয়ারগানের গুলি, দু’টি মেটাল স্ট্রিক, পাঁচটি মদের বোতল ও দু’টি মোবাইল ফোন।
অভিযানকালে আরিফ পালিয়ে গেলেও আটক করা হয় তার দুই ভাই জোয়েব হাসান সাকি ও জাকির হোসেন সাগর। এছাড়া আরিফের স্ত্রী লোপা খাতুন এবং সাগরের স্ত্রী তাহেরা আক্তার তানিয়াকেও আটক করা হয়। রাত সাড়ে চারটার দিকে তাদের সবাইকে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আরিফ, সাকি ও সাগর ছিলেন প্রভাবশালী ও দাপটে ক্যাডার। বিশেষ করে আরিফ ছিলেন সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের একটি অংশের বাহিনী প্রধান। এছাড়া শাহীন চাকলাদারের ভাই ফন্টু চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এই তিন ভাই।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, যুবলীগের নাম ব্যবহার করে অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিলেন তারা। এর আগেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তারা ছিল গোয়েন্দা নজরদারিতে।
বিশেষ বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মধ্যরাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের আগেই কৌশলে পালিয়ে যায় আলোচিত সন্ত্রাসী আরিফ।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

