বিএনপি’র চেয়ারপারসন তারেক রহমানের যশোরের জনসভায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সমাবেশস্থলে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এরমধ্যে একশ’ জন পুলিশের শরীরে বডি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকবে।
গতকাল রবিবার বিকেলে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “তারেক রহমান হেলিকপ্টারে যেখানে অবতরণ করবেন, সেই হেলিপ্যাড এলাকা থেকে শুরু করে সমাবেশস্থল পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দুই স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সুপার জানান, “মঞ্চের চারপাশেও দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও ডিএসবি সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। সমাবেশস্থলের আশপাশে বড় বড় গাছ থাকায় সেখানে কেউ যাতে অবস্থান নিতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে।” এ বিষয়ে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা পুলিশের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
যানবাহন ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহরের পাঁচটি স্থানে যানবাহন রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিআইপি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রথমবারের মতো পুলিশের শরীরে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতে কোনো দুর্বৃত্ত অপরাধ করে পালিয়ে গেলেও তার কর্মকাণ্ড ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হয়। সমাবেশে দায়িত্ব পালনকারী শতাধিক পুলিশ সদস্য এই ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।”
নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ জন্য পুলিশ সদস্যদের একটি মহড়ার আয়োজনও করা হবে।”
প্রেসব্রিফিং শেষে পুলিশ সুপার সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল আহসান হাবীব, কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলীসহ উধ্বতন কর্মকর্তারা।
খুলনা গেজেট/এনএম



