বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও তারা স্বস্তি পাচ্ছে না। গতকাল বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ কারণে জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। গত তিনদিন ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত ২৭ ডিসেম্বর যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ওইদিন ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর গত তিনদিন তাপমাত্রা সামান্য উর্ধ্বমুখী হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা ও উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন গরীব মানুষেরা কোথাও স্বস্তি পাচ্ছে না।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, “যশোরের ওপর দিয়ে এখন মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাসের দাপট। এ দুইয়ে মিলে কাঁপন লেগেছে হাঁড়ে। এর আগে কখনও এবারের মতো কাঁপন ধরানো শীত যশোরে পড়েনি বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে, আর ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

এ তথ্য অনুযায়ী যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। কনকনে শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে হচ্ছে।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচন্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

উপশহর এলাকার শ্রমজীবী মোক্তার হোসেন বলেন, “শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। তীব্র শীতে মানুষ তার বাড়ির কাজও করাচ্ছেন না। এ কারণে আয় রোজগারও নেই বললেই চলে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।”

এ পরিস্থিতি নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন