বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

অভয়নগরের গলার কাঁটা টেকা ব্রিজ

গাজী আবুল হোসেন

যশোর জেলার অভয়নগরের শেষ প্রান্তে অভয়নগর মনিরামপুর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হল টেকা ব্রিজ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গলার কাঁটা হয়ে ঝুলে আছে এই ব্রিজটি। দীর্ঘ ভোগান্তির পর একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও আইনি জটিলতায় তার সুফল ভোগ করতে পারেনি এলাকাবাসী। এর কারণে বিকল্প হিসাবে কাট বাঁশ দিয়ে তৈরি করা বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি উপজেলার মানুষ।

গত সপ্তাহে কাঠ বাঁশের ব্রিজটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। শ্রমজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই উপজেলা থেকে। থমকে যায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসায়ীক কার্যক্রম। নৌকার মাধ্যমে পারাপার শুরু করলেও সেখানেও ঘটে নানা দুর্ঘটনা। কয়েকদিন নৌকাডুবিতে জীবনহানি না হলেও আহত হয়েছেন অনেক নারী শিশু। এরপর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দান অনুদানের টাকায় চলে সাকোঁ নির্মাণের কাজ, সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জরাজীর্ণ অবস্থায় নড়বড়ে সাঁকোটি বারবারই ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে অসহায় মানুষ। নড়বড়ে কাঠের ব্রিজটি মেরামতে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন বর্তমানে কাজ করছে।

২০২১ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর ৭ কোটি ৫৭ লাখ ২ হাজার ৮ শত ৫৭ টাকা ব্যয় টেকা নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেতুর ৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর আইনি জটিলতায় সেতু নির্মাণের কাজ ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। দেখা গেছে, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ফলে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দূর দূরান্ত থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিরে যাচ্ছেন অথবা ১০-১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

স্থানীয় এবং চলাচলকারী পথযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনিরামপুর এবং অভয়নগর উপজেলার ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষ এই টেকা ব্রিজ হয়ে চলাফেরা করেন। এছাড়া রাস্তাটি আড়াআড়ি হওয়ায় চলাচলে সময় বাঁচানোর জন্য যশোরের কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও সাতক্ষীরা জেলার মানুষও এই পথটি ব্যবহার করেন।

অভয়নগরের বারান্দি ও দিঘলিয়া গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী মনিরামপুর উপজেলার টেকারঘাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় তারা স্কুলে এ পথে যেতে পারে না। হাসপাতালে রোগী যেতেও পারেন না। টেকা নদীর দুইপাশের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে বিক্রির ক্ষেত্রেও পড়েছেন বিপাকে। মূল সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বিকল্প হিসেবে বাঁশ কাঠের সেতু দিয়ে দুই উপজেলার মানুষ চলাচল শুরু করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সেতুটি ভেঙে পড়ে।

এলাকার ভ্যানচালক শিমুল বলেন, “এই সেতুর উপর দিয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় অত্যন্ত দুর্ভোগের শিকার হয়েছি।”

বারান্দি গ্রামের রাজু আহমেদ জানান, “এই সেতুটি ছিল দুই উপজেলার ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। এই পথ দিয়ে আর কেউ চলাচল করতে পারছে না। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে না বিকল্প হিসেবে নৌকায় চলাচল শুরু করছে। কিন্তু অভ্যস্ত না হওয়ায় নৌকা চলাচলে ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনা।

মনিরামপুর উপজেলার পাচা কড়ি গ্রামের শ্যামল রায় বলেন, “তার স্ত্রীকে নিয়ে অভয়নগর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অবশেষে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে তবে হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে আসেন।”

পায়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, “চলাচলের একমাত্র সংযোগ সেতুটি ভেঙে পড়ায় শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।”

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাউদ্দিন দিপু জানান, “সংবাদ পেয়ে মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সংস্কার প্রকল্প থেকে তিনি ৩ লাখ টাকা নির্মাণ কাজের জন্য দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আশা করছি দ্রুতই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। একটি বেলি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন