টানা তিন দিন ধরে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। তীব্র রোদের তাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ।
তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। সদরের এক কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধানের জমিতে কাজ করতে গেলে গরমে দাঁড়ানোই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। রোদে শরীর ঝলসে যাচ্ছে। একটু কাজ করলেই মাথা ঘুরে যায়।
আরেক কৃষক সোহেল রানা বলেন, এই গরমে মাঠে কাজ করা খুবই কষ্টের। সকালেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আর মাঠে থাকা যায় না।
শহরের ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা লাল্টু জানান, গরমের কারণে ক্রেতা কমে গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়। সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একই সময়ে জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত দুদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ছিল। টানা এই তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, চলমান এই মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ আরও কিছুটা সময় অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামীকাল থেকে ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে।

