শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

গেজেট প্রতিবেদন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মীদের ‘বাঁশের লাঠি’ ব্যবহারে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

গত মঙ্গলবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন এ নোটিশ জারি করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত দলীয় এক কর্মশালায় বক্তব্য দেন মো. রুহুল আমিন। সেখানে তিনি কর্মীদের বাঁশের লাঠি তৈরি করে তাতে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক এবং নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি উল্লেখ করে একই দিন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এম এ সবুর।

নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। কমিটির নোটিশে বলা হয়েছে, রুহুল আমিনের বক্তব্যে লড়াই, রক্ত ঝরানো এবং বাঁশের লাঠি ব্যবহারের প্ররোচনা রয়েছে, যা জনমনে ভয়ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫ ও ১৬ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলেও মন্তব্য করা হয়।

শোকজ নোটিশের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মো. রুহুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বক্তব্য কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ছিল না। তিনি দাবি করেন, ভোট চুরি প্রতিহত করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রস্তুতির কথাই আমি বলেছি। এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং একটি পরিকল্পনা মাত্র।

নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় মো. রুহুল আমিনকে সশরীরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন