রবিবার । ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২

বিশুদ্ধ পানি সংকট দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

চিতলমারী প্রতিনিধি

বাগেরহাটের চিতলমারীতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছে। স্কুলের অভ্যন্তরে থাকা টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পান করতে পারছে না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একমাত্র পানির উৎস টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় চৈত্রের তাপা দহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে ছোট বোতলে ভরে পানি আনলেও প্রচণ্ড গরমে তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১১১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭ টি আলিয়া মাদ্রাসা ও ৪ টি কলেজ রয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী ও ৫৫৪ শিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী ও প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, কলেজ ও মাদ্রাসা গুলোতে আরও কমপক্ষে ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যার বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চৈত্রের তাপদহে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউবওয়েল নষ্ট ও অকেজো। যেগুলো সচল রয়েছে সেগুলোতে আবার মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় শিক্ষার্থীরা পানি পান করতে পারছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ জলাধার পড়ে রয়েছে।

সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিরা সুলতান ছোঁয়া, আরাধ্যা হুই, মেঘনা ও ও পরি জানায়, “তাদের স্কুলে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাড়ি থেকে বোতলে ভরে আনতে হয়। অনেক সময় পানি ফুরিয়ে যায়। আবার পানি গরম হওয়াতে সেগুলো পান করা যায় না।”

ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামালেন্দু গোলদার, সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই ও শ্যামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফায়েত হোসেন জানান, “তাদের স্কুলে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। স্কুলের আশেপাশের বসতবাড়ি গুলোর টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পান করতে পারে না।”

চিতলমারীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ. কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহিতুল ইসলাম জানান, “তার বিদ্যালয়ে কোনো টিউবয়েল নেই। বাধ্য হয়ে পাশের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে ড্রামে ভর্তি করে রাখা হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সেই পানি পান করতে চায় না।”

বড়বাড়িয়া রহমানীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাশুকুর রহমান জানান, “তার মাদ্রাসায়ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে।”

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস জানান, “গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উপর মহলে জানানো হবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ জানান, “অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। বিষয়টি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

চিতলমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ আজমল হোসেন জানান, “এ উপজেলার বেশীর ভাগ এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপন করা যায় না। আর অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় তা পানের অযোগ্য। রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জলাধার গুলো শূন্য।”

চিতলমারী ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো তাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানালে আমি সংকট নিরসনের জন্য কাজ করব।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন