তিন দিনের ব্যবধানে সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পৃথক স্থান থেকে দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আরো ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। গত সোমবার দিবাগত রাতে দুবলার চরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়ার খাড়িসংলগ্ন সাগরে মাছ ধরার সময় অপহরণের শিকার হন তারা। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
অপহৃত জেলেরা হলেন হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস।
তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকায়।
এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেলারচর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী। এরপর চার দিনেও মুক্তি মেলেনি তাদের। ফের জেলে অপহরণের ঘটনায় গোটা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলে এবং দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের জেলে ও মহাজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পেড়েছে।
দস্যুদের বেপরোয়া তৎপরতায় এখন মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন জেলেরা। অপরদিকে দস্যু দমনে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা গুঁটিয়ে ফেলার কথাও ভাবছেন মহাজনরা।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সেমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা-১টার দিকে বঙ্গোপসাগরের পৃথক স্থানে আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এ সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।
যাওয়ার সময় ট্রলারের অন্য জেলেদের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় দস্যুরা।
ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় আরো বলেন, গত শুক্রবার শেলারচর থেকে অপহৃত ছয় জেলে এখনও জিম্মি রয়েছেন দস্যুবাহিনীর কাছে। দস্যুরা ওই জেলেদের জিম্মি করে শেলারচর শুঁটকি পল্লীর ৫০টি শুঁটকি ঘরের প্রত্যেকটি থেকে এক লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। শেলারচরের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা দ্রুত দাবিকৃত চাঁদা না দিলে জিম্মি জেলেদের ছাড়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলে-মহাজনরা চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বনদস্যুদের কয়েকটি বাহিনী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দাপটে জেলেদের মাছ ধরার উপায় নেই। অপহরণের ভয়ে জেলেরা সাগরে যেতে চাচ্ছে না। দস্যুদের চাঁদা আর মুক্তিপণের টাকা দিতে দিতে ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীর। এমনকি পেশা ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন অনেকে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং দস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানের দাবি জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবন ও শুঁটকি পল্লীগুলোর জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তা ও অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সহযোগিতার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

