রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরাতন কপার স্ক্র্যাপ কিনতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সেলিম শেখ। ৪০ লাখ টাকা খুইয়ে তিনি সর্বস্বান্তই হননি, মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে চক্রটির নিয়মিত মহড়া এবং হুমকিতে আতঙ্কে দিন পার করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার খুলনার আদালতের বারান্দায় মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে থাকেন ওই যুবক। এসময় কথা হয় তার সাথে। সেলিম শেখ বলেন, “বটিয়াঘাটা উপজেলার নারায়ণখালী এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইকবাল হোসেন পূর্ব পরিচিত হওয়ায় প্রতারক প্রদীপ সরকার ওরফে সোহেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ওই প্রদীপ রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওয়ার ম্যাক্স কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। পরিচিত হওয়ার এক পর্যায়ে সেলিমের কাছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওয়ার স্টেশনের ৪৫ টন কপার স্ক্র্যাপ প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রির প্রস্তাব দেয় প্রদীপ। যার বাজার মূল্য ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভুক্তভোগীকে ৪০ লাখ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি লাভজনক হওয়ায় সেলিম গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রদীপকে ৪০ লাখ টাকা দেয়। টাকা দেওয়ার পর দিন ট্রাক নিয়ে সেলিম পাওয়ার ম্যাক্স কোম্পানিতে নিতে গেলে ট্রাকটি খালি অবস্থায় বের করে দেওয়া হয়। বলা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে মাল বুঝে পাবেন।”
সেলিম বলেন, “বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক হওয়ায় খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। পরে জানতে পারেন পাওয়ার ম্যক্স কোম্পানি ব্যবস্থাপক প্রদীপ সরকার ওরফে নরেশ বাবু একই ব্যক্তি নন। তখন তিনি টাকা ফেরত চাইলে পরবর্তীতে দেওয়া হবে বলে ওই প্রতারক জানায়। পরবর্তীতে ওই প্রদীপ ১৫-২০ জনকে সাথে নিয়ে সেলিমের বাড়িতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে ভুয়া ইট বালু এবং সিমেন্টের ব্যবসায়ী সাজিয়ে উল্টো তার কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাবে বলে দাবি করে। তিনি বাড়িতে না থাকায় পরিবারের সদস্যদের শাসিয়ে আসে প্রদীপ।”
একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সেলিম বটিয়াঘাটা থানাধীন জয়পুর বাজারে অবস্থান করার সময় পাওয়ার ম্যাক্স কোম্পানির পরিচয় দেওয়া ভুয়া ব্যবস্থাপক একটি প্রাইভেটকার এবং পিকআপে ১৫-২০ জনকে সাথে নিয়ে সেলিমকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আসে। বাধা প্রদান করলে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা বেয়াই মোঃ শওকত হোসেনের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। ওই সময় সেলিম বটিয়াঘাটা থানায় একটি জিডি করেন।
ওই প্রতারক চক্রের অব্যাহত হুমকিতে সেলিম নিজ বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছে। সেখানে গিয়ে হুমকি দিলে গত বছর ১০ অক্টোবর সেলিম বাদী হয়ে নালিশি মামলার আমলি আদালতে প্রতারণা ও মারধর মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ওই প্রদীপের সহযোগী তারিকফুলকে দিয়ে ঢাকার শ্যামপুর থানায় সেলিমের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করে। এই মামলায় সিআইডি এসআই মোঃ আরিফ হোসেন গত ৫ অক্টোবর ডুমুরিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে জামিন নিয়ে খুলনায় ফিরে আসে।
সেলিম বর্তমানে ডুমুরিয়া নতুন রাস্তার মোড়ে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা করছেন। প্রতারক চক্রটি থেমে থাকেনি। তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে।
ঢাকার শ্যামপুর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি’র এসআই মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, “প্রতারণা মামলায় সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। আমরা ঘটনাগুলো শুনেছি। তাকে সব ডকুমেন্টগুলো নিয়ে ঢাকায় আসার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”
আইনজীবী সাব্বির আহমেদ বলেন, “সেলিমের দায়ের করা মামলার আসামি প্রদীপ ওরফে নারেশ বাবু ওরফে সোহেল, মোঃ ইকবাল হোসেন, তারিক ওরফে তারেক, জয়নাল ফকির, বশির ওরফে বশির ডাকাত এবং বোরহানউদ্দিন প্রতারক প্রকৃতির। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েকটি থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ মামলার দু’জন আসামি জামিনে রয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে প্রদীপ ও তারিফুল বেপরায়া প্রকৃতির। যে কোনো সময় তারা সেলিমের প্রাণ নাশের হুমকির কারণ হতে পারে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
