বিশ্বের সবচাইতে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এ বনের সবচাইতে বড় আকর্ষণ বাঘ এবং হরিণ। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন সুন্দরবনে, উপভোগ করেন সুন্দরবনের সৌন্দর্য। সুন্দরবনকে বলা হয় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস ভূমি। নদীর চরে ঝাকে ঝাকে ঘুরে বেড়ায় মায়াবী হরিণ বানর কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। ভাগ্যক্রমে অনেকের সামনেই দেখা মিলে সুন্দরবনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। কিন্তু সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের দৌরাত্ব বাড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এ বনের বন্যপ্রাণীরা।
খাবারের অভাবে বিপন্নতার ঝুঁকিতে সুন্দরবনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বনের ভেতরে চোরা শিকারিদের পেতে রাখা বিভিন্ন ফাঁদে আটকা পড়ছে হরিণ, বাঘ, শাবকসহ বন্যপ্রাণী। আর এ কারণে খাবারের অভাবে ঝুঁকিতে সুন্দরবনের বাঘ। বনের এসব প্রাণী রক্ষায় চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থান নেওয়ার আহ্বান প্রাণী গবেষকদের।
বাংলাদেশের ভেতরে সুন্দরবনের আয়তন ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে বনের চার হাজার কিলোমিটার ডাঙ্গায় বাঘের আবাস। ডোরা কাটা বেঙ্গল টাইগারের শেষ আবাসস্থল সুন্দরবন। নোনা পানির জোয়ার-ভাটার বনে কোনভাবে টিকে আছে এই বাঘ। তবে চোরা শিকারিদের থাবা আর খাবারের অভাবে বিলুপ্তির মুখে সুন্দরবনের রাজা। বনের হরিণ, শূকর ও বানর বাঘের প্রধান খাবার। সেখানেও চোরা শিকারিদের থাবা। শুধু হরিনই নয়, ধরা পড়ছে বন্য অন্য প্রাণীরাও। এ অবস্থায় প্রাণী গবেষকদের আশংকা, চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য সুন্দরবনে শূণ্য হয়ে হয়ে পড়বে বাঘসহ অন্যান্ন প্রাণীরা।
পরিবেশবিদ সুন্দরবন রক্ষায় আমরা সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ বলেন, “আবাদে হরিণ শিকারের কারণে সুন্দরবনের বাঘের খাবার সংকটা পন্য হচ্ছে। অপরদিকে সুন্দরবনের নদী এবং খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে যেমন মাছ নষ্ট হচ্ছে তেমনি বিষাক্ত পানি খেয়ে অনেক বাঘ মারা ও যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগসহ সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল বনজীবীদের আরো সচেতন হতে হবে এবং বনের জীববৈচিত্র রক্ষায় আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন।”
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কোবির জানান চোরা শিকারীদের ধরতে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিছু দুষ্কৃতকারী বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে বনের গহীনে ঢুকে হরিণ শিকারসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে। আমাদের পেট্রোল টিমসহ আমরা তাদের ধরতে দিনরাত নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। হরিণ শিকারের ফাঁদসহ অনেকেই আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের মাঝে আমরা সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা ও চালাচ্ছি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পূর্ব সুন্দরবন, বাগেরহাট, রেজাউল করিম চৌধুরী জানান বনের বিভিন্ন স্থানে হরিণ শিকারীদের বিপুল পরিমান পেতে রাখা ফাঁদ উদ্ধারের ফলে রক্ষা পেয়েছে বন্যপ্রাণীরা। তবে শিকারিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দরবনে বাঘ রক্ষায় দ্বিতীয় প্রজন্মের টাইগার অ্যাকশন প্রকল্প চলমান রয়েছ। গঠন করা হয়েছে ৪৯টি ভিলেজ রেসপন্স টিম।
খুলনা গেজেট/এনএম