বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২
৯৯৯ এ ফোন দিলে ধান জব্দ করল পুলিশ

চিতলমারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধান কাটার অভিযোগ

চিতলমারী প্রতিনিধি

বাগেরহাটের চিতলমারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসহায় বিধবার ক্ষেতের পাকা ধান কাটার অভিযোগ উঠছে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করলে সেই ধান জব্দ করে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার পাটরপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে ওই ধান ইউপি সদস্য মোঃ পলাশ তালুকদারের জিম্মায় রাখা হয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসিরা ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন।

পাটরপাড়া গ্রামের দীন ইসলাম বাদশা শেখ, আকসার আলী শেখ, নজরুল ইসলাম শেখ, মাহামুদা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তাঁদের গ্রামের এবাদত খান ২ বছর আগে মারা যান। মৃত্যু আগে তিনি সকল জায়গা-জমি তাঁর স্ত্রী সাহানারা বেগম ও মেয়ে সালমা আক্তারের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হন এবাদত খানের ছোট ভাই হামেদ খান। সে এবাদত খানের স্ত্রী ও মেয়েকে ভিটামাটি ছাড়া করতে বিভিন্নভাবে হয়রানি অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। এরই অংশ হিসাবে শনিবার সকালে আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও হামেদ আলী খান ও তার ছেলে লিন্টু খানের নেতৃত্বে আড়–য়াবর্নি ডরপাড়া গ্রামের ১৫-২০ জনের একটি ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী সাহানারা বেগম ও সালমা আক্তারের জমির পাঁকা ধান কেটে নিয়ে যায়।

সাহানারা বেগমের জামাতা সুমন আহম্মেদ শিমুল জানান, বাধা দিতে গেলে ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর লোকজন তাঁদের উপর হামলা করে। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে হামেদ খানের বাড়ি থেকে ধান জব্দ করে স্থানীয় পলাশ মেম্বারের জিম্মায় রাখে।

বিধবা সাহানারা বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর আগে আমার স্বামী মেয়ে ও আমার নামে তার যাবতীয় সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে গেছেন। এটা আমাদের জীবনে কাল হয়ে দাড়িয়েছে। দেবর হামেদ আলী খান ও তার লোকজন সম্পত্তির জন্য আমাদের খুন জখম করতে পারে। ভয়ে আমরা মা-মেয়ে বসত-বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছি।

ঘটনার পর থেকে হামেদ আলী খান ও তাঁর ছেলেরা পলাতক থাকায় তাঁদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হামেদ খানের স্ত্রী মনোয়রা বেগম জানান, ওই ঘেরের ভিতরের ১৫ শতক জমি তাঁর ছেলে লিন্টু ও মাসুম পাটরপাড়া গ্রামের কাদের তালুকদারের কাছ থেকে কিনেছেন। সেই জমি থেকে তাঁরা ধান কেটেছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ কাটা ধান জব্দ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের জিম্মায় রেখেছে। আদালতে ওই জমি নিয়ে মামলা চলমান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ কাজ করছে।

খুলনা গেজেট/ এসজেড




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন