অস্ট্রেলিয়ায় ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়াল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের অপেক্ষা ২৩ বছরের। পাকিস্তানের লেগেছিল প্রায় ১২ বছর, ভারতের ৩০ বছরেরও বেশি। এরপরও ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে দ্রুততম বাংলাদেশ। কারণ, বছরের হিসাবে নয়, খেলা ম্যাচের সংখ্যায় অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত প্রথম জয় পাওয়া এশীয় দল এখন টাইগাররা।

২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ডারউন ও কেয়ার্নসের সেই দুটি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর কোনো টেস্ট খেলার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ।

২০২৬ সালে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম ম্যাচেই বদলে গেল ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের মাত্র তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারাল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম জয় পেতে এত কম ম্যাচ লাগেনি এশিয়ার আর কোনো দলের।

এই তালিকায় বাংলাদেশের পরেই রয়েছে পাকিস্তান। ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলেছিল তারা। প্রথম জয়ের দেখা পায় ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে। অর্থাৎ সময়ের হিসাবে পাকিস্তানকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রায় ১২ বছর এক মাস। তবে সেই জয় এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের সপ্তম টেস্টে।

ভারতের অপেক্ষা ছিল আরও দীর্ঘ। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলেছিল তারা। প্রথম জয় আসে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে মেলবোর্নে, ২২২ রানের ব্যবধানে। সময় লেগেছিল ৩০ বছরের কিছু বেশি, আর ম্যাচের হিসাবে সেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের ১২তম টেস্ট।

শ্রীলঙ্কার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্থে প্রথম টেস্ট খেলার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৫টি ম্যাচ খেলেছে তারা। প্রায় ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো টেস্ট জিততে পারেনি লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের জয়ের তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ঘরের রেকর্ড। ভারত ছাড়া এশিয়ার কোনো দলের কাছে নিজেদের মাঠে ৩১ বছর টেস্ট হারেনি অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে সিডনিতে পাকিস্তানের কাছে ৭৪ রানে হেরেছিল তারা। তিন দশকের বেশি সময় পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ।

ডারউনে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ নেন ৬ উইকেট। তানজিদ হাসান তামিমের শতক, শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের লিড নেয় সফরকারীরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন শতক করলেও অস্ট্রেলিয়া থামে ২৮৪ রানে। মিরাজ নেন ৫ উইকেট, হাসান আরও ৩টি। এরপর ৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র এক উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

উইকেটের হিসাবে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেস্ট জয়। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারানো জয়টিই শুধু এর ওপরে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে পরিচিত সেনা দেশগুলোতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। প্রথমটি এসেছিল ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়টির পর এবার তাদের নিজেদের মাটিতেই পরাস্ত করল টাইগাররা। তবে ম্যাচের সংখ্যায় দ্রুততম এশীয় দল হওয়ার অর্জন ডারউনের জয়কে দিয়েছে আরও আলাদা মর্যাদা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন