বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে নরওয়ে। দলজুড়ে ভাইরাসজনিত অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে। একাধিক ফুটবলার জ্বর, কাশি ও গলাব্যথায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান কোচ স্তালে সোলবাকেন।
শনিবার মিয়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলবে নরওয়ে। তার আগে নরওয়েজিয়ান সংবাদমাধ্যম দাগব্লাদেত জানিয়েছে, দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং টানা সূচির চাপের কারণে স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এরই মধ্যে স্ট্রাইকার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দলের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি। একই ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের স্মরণীয় জয়ে মাঠে নামতে পারেননি ডিফেন্ডার মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেনও।
অসুস্থতার প্রভাব শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্তালে সোলবাকেনকেও বারবার কাশতে দেখা যায়। সে সময় তিনি দীর্ঘ ভ্রমণ ও টুর্নামেন্টের চাপ খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
দলের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সলবাকেন বলেন, ‘মূলত জর্গেনেরই তীব্র জ্বর ছিল। তবে স্কোয়াডের প্রায় সবার মধ্যেই কম-বেশি কাশি ও গলাব্যথার মতো উপসর্গ রয়েছে। অতিরিক্ত এয়ারকন্ডিশন, দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ, বারবার ড্রেসিংরুম পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়েই এমনটা হচ্ছে। আমাদের বহরে ৫০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে। তাই দু-একজন অসুস্থ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’
তবে আশার খবরও দিয়েছেন নরওয়ে কোচ। তার বিশ্বাস, পেডারসেন ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারলে জুলিয়ান রিয়ারসন তার জায়গা সামলাতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান সলবাকেন।
পেডারসেনের অসুস্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তার নই। তবে আমার মনে হয়, সে এখনো তরুণ এবং বিশ্বকাপে এসে অনেক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। শুরুতে সে ভেবেছিল জুলিয়ানের ব্যাকআপ হবে। কিন্তু দুটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছে। মানসিক ও শারীরিক এই বাড়তি চাপই হয়তো তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলেছে।’
ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে এখন ইংল্যান্ডকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ভাইরাসের প্রকোপ কতটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়, সেটিই এখন দলটির সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

