বুধবার । ১৭ই জুন, ২০২৬ । ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্সের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুরুটা ছিল সেনেগালের, শেষ হাসিটা ফ্রান্সের। প্রথমার্ধজুড়ে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আর দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

বুধবার (১৭ জুন) মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালকে বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।

এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল সেনেগালের দখলে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা। দ্বিতীয় মিনিটেই এল হাজি মালিক দিয়ুফের বিপজ্জনক ক্রস থেকে কর্নার আদায় করে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বলের দখলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে বারবার তাদের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সাররা। অষ্টম মিনিটে জ্যাকসনের বাড়ানো বলে সার এগিয়ে গেলেও দারুণ ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন দায়ো উপামেকানো।

ধীরে ধীরে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের পাসে সুযোগ পেয়েও বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পরে দেম্বেলের দূরপাল্লার শট প্রতিহত করেন সেনেগালের এক ডিফেন্ডার। তবে প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে ২৬তম মিনিটে। দিয়ুফের পাস ধরে বাম দিক দিয়ে উঠে এসে উপামেকানোকে পেছনে ফেলে শট নেন নিকোলাস জ্যাকসন। তার জোরালো প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, পরে মাইক মেনিয়ানের গায়ে লেগে বল কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

পানি পানের বিরতির পরও সেনেগালই ছিল বেশি বিপজ্জনক। ৩২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইসমাইলা সারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়েদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যাচ্ছিল না। যোগ করা সময়ে আবারও সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন সার। ছয় গজের ভেতর বল পেয়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় তার শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে দেজিরে দুয়ের শট অল্পের জন্য পোস্ট মিস করে। এরপর মাইকেল ওলিসে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের দুটি ভালো প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এদুয়ার মেনদি। ৫৯তম মিনিটে সাদিও মানের চ্যালেঞ্জে বক্সে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করেন এমবাপ্পে। ভিএআর পর্যালোচনার পরও রেফারি আলিরেজা ফাঘানি নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি।

তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ফরাসি অধিনায়কের। ৬৬তম মিনিটে ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাসে রক্ষণভাগ ভেদ করে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে মেনদিকে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। গোল হজমের পর সেনেগাল দ্রুত জবাব দেয়ার চেষ্টা করে। এক মিনিট পর নিকোলাস জ্যাকসন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফ্রান্স। ৮০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আদ্রিয়েন রাবিওর বাড়ানো বল ধরে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করেন এই পিএসজি ফরোয়ার্ড।

তবে লড়াই ছাড়েনি সেনেগাল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় ইব্রাহিম এমবায়ে জোরালো শটে ব্যবধান ২-১ করেন। শেষ মুহূর্তে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও সেই আশা টিকতে দেননি এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে বক্সের অনেক বাইরে থেকে নেয়া দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি।

শুরুতে সেনেগালের চাপে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের কার্যকারিতায় পার্থক্য গড়ে দেয় ফ্রান্স। এমবাপ্পের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করল লে ব্লুরা, আর দাপুটে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো সেনেগালকে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন