বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিল শিবিরে একসঙ্গে দুই ছবি। একদিকে কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্মদিন ঘিরে দলের হাসি-আনন্দ, অন্যদিকে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে অনুশীলনে নেই নেইমার। নিউ জার্সির মরিসটাউনে বুধবারের অনুশীলনেও দেখা যায়নি ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তারকাকে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী নেইমার এখনো ডান পায়ের কাফের গ্রেড-টু চোট থেকে সেরে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন। মে মাসের মাঝামাঝি ব্রাজিলে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পান তিনি। এরপর থেকেই বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে শনিবার মরক্কোর বিপক্ষে। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি। সেই ম্যাচে নেইমারের না খেলা একপ্রকার নিশ্চিত। তবে পরের গ্রুপ ম্যাচগুলোতে, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়েও এখনো পরিষ্কার কোনো ইঙ্গিত নেই।
নেইমারের অনুপস্থিতির মধ্যেই অনুশীলনে ৬৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচের জন্য গার্ড অব অনার দেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। সাধারণত এমন গার্ড অব অনারে খেলোয়াড়রা মজা করে ধাক্কা বা হালকা আঘাত করেন। তবে রাফিনিয়া মজা করে জানান, আনচেলত্তির ক্ষেত্রে সবাই বেশ কোমল ছিলেন। তাঁর কথায়, কোচ গার্ড অব অনারের ভেতর দিয়ে গেলেও কেউ তাঁকে স্পর্শ করেননি।
ব্রাজিলের দায়িত্বে আনচেলত্তির সামনে বড় লক্ষ্য—২৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দেশকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতানো। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। তাই এবার আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, তরুণ স্কোয়াডের শক্তি এবং নেইমারের ফিটনেস—সবকিছু নিয়েই আলোচনায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নেইমার না থাকলেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই আশাবাদী। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের মিডফিল্ডার জিনিয়ো মনে করেন, ব্রাজিল হয়তো সবচেয়ে বড় ফেভারিট নয়, কিন্তু ভালো খেলোয়াড় আছে এবং তারা দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারলে সুযোগ থাকবে। তাঁর ধারণা, ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কোর বিপক্ষে আনচেলত্তির ব্রাজিল সতর্কভাবেই খেলবে।
ব্রাজিলিয়ান রেডিও ধারাভাষ্যকার বেনজামিন ব্যাকের মতে, আনচেলত্তি দলের ধরন খুব বেশি বদলাবেন না। তাঁর বিশ্লেষণে, ব্রাজিল হয়তো রক্ষণে সংগঠিত থাকবে, প্রতিপক্ষের গতিবিধি দেখবে এবং বল পেলেই দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তরুণ, শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল এবং বড় কোচ—এই তিন কারণে তিনি ব্রাজিলকে ফেভারিটদের মধ্যেই রাখছেন।
তবে নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য শুধু একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার বিষয় নয়। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখার ক্ষমতা এবং ব্রাজিলীয় সমর্থকদের আবেগ। চোটে জর্জরিত ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাঁর বাইরে থাকা ব্রাজিলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ তাই ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা। নেইমারকে ছাড়া আনচেলত্তির দল কতটা ভারসাম্য রাখতে পারে, আক্রমণে কে নেতৃত্ব নেয়, আর রক্ষণ কতটা স্থির থাকে—প্রথম ম্যাচেই তার ইঙ্গিত মিলবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

