মঙ্গলবার । ৯ই জুন, ২০২৬ । ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখলেন মোসাদ্দেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর ওয়ানডে একাদশে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অলরাউন্ডার হিসেবে জাতীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, ছিল নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জও। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন মোসাদ্দেক।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংসের অন্যতম ভরসা ছিলেন মোসাদ্দেক। দলের চাপে পড়া পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর শেষদিকে খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশকে এনে দেয় লড়াকু সংগ্রহ।

স্লগ ওভারে একজন ফিনিশারের যা করার কথা, মোসাদ্দেক যেন ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন। দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, নিজে রান করেছেন, লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে গড়েছেন জুটি।

ব্যাটের পর বল হাতেও সমান কার্যকর মোসাদ্দেক। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে শিকার করেছেন ২ উইকেট। প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙার পাশাপাশি দলকে এনে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু। ফলে দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়েই বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছিলেন না মোসাদ্দেক। এ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনাও কম হয়নি। সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মেহেদী মিরাজের মতো একই ধরনের অলরাউন্ডার হওয়ায় মোসাদ্দেকের সুযোগ পাওয়া কঠিন।

লিপুর সেই মন্তব্য ক্রিকেট অঙ্গনেও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। হতাশা কিংবা আক্ষেপকে পেছনে ফেলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন তিনি। ডিপিএল ও বিসিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২২ সালে। প্রায় চার বছর পর আবারও সুযোগ পেয়ে ব্যাট ও বল হাতে এমন পারফরম্যান্স করেছেন, যাতে দীর্ঘ বিরতির কোনো ছাপই দেখা যায়নি। বরং সুযোগটা দুই হাতে লুফে নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

খুলনা গেজেট/এএজে

 




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন