মঙ্গলবার । ৯ই জুন, ২০২৬ । ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফুটবল, বাকি মাত্র ২ দিন

মোঃ আনিস উদ্দিন

ফুটবল বিশ্বকাপ সবাইকে এক সমতলে নিয়ে আসে। এখানে সবাই অভিজাত স্কুলের মাঠে বা ব্যয়বহুল সুযোগ-সুবিধায় বেড়ে ওঠে না। কেউ রিও ডি জেনিরোর বস্তি, নাইরোবির ঝুপড়ি ঘর থেকে, কেউ আবার মোনাকো বা বেভারলি হিলসের অভিজাত পরিবেশ থেকে ফুটবলের মাঠে আসে। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের শিশুই ফুটবল খেলেই বড় হয়। এই খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো- অনেক সময়ই সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রাই হয়ে ওঠেন জাতির নায়ক, মাঠের ভেতর ও বাইরে আইকন। বিশ্বকাপ সেই জায়গা, যেখানে কিংবদন্তিরা নিজেদের ইতিহাস লেখেন।

টেলিভিশন আর আধুনিক ডেটা বা উপাত্তের মেলবন্ধন ফুটবলকে দেখার ও বোঝার চিরচেনা উপায়টি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালটি প্রথমবারের মতো প্রায় ৪০ কোটি মানুষ টেলিভিশনে দেখছিলেন। এর আগে ১৯৫৪ সালের টুর্নামেন্ট পর্যন্ত বিশ্বকাপ মোটেও টেলিভিশনে দেখানো হতো না। ভক্তরা খেলার খবর জানতে পরদিন সংবাদপত্র কিনতেন। কিন্তু ১৯৬৬ সাল থেকে দর্শকরা নিজেরাই সাদা-কালো পর্দায় খেলার গতিপ্রকৃতি সরাসরি দেখার সুযোগ পান। টেলিভিশনে ফুটবল সম্প্রচারের এই বিপ্লব পরোক্ষভাবে ফুটবলকে উপাত্তে রূপান্তর করার পথ খুলে দেয়। ‘অপটা’ নামের ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৬ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচের ভিডিও নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখে খেলোয়াড়দের প্রতিটি স্পর্শের হিসাব বের করেছে। এর ফলে ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত সব মুহূর্ত এখন স্প্রেডশিটের সারিতে বন্দি হয়ে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের সুযোগ করে দিয়েছে, যা আগে কেবল মানুষের স্মৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। গত ১৫টি বিশ্বকাপের এই পরিবর্তনের গল্পই মূলত লং বলের আদিম যুগ থেকে আধুনিক টিকিটাকা বা বল ঘোরানোর বিবর্তনের ইতিহাস।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন