বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে ‘ফুটবল’। আফ্রিকার বিদ্যুৎহীন, অনুন্নত গ্রাম থেকে শুরু করে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের যে কোনো আধুনিক মেগাসিটি- ভৌগোলিক ও সামাজিক সব ব্যবধান এক নিমিষেই মুছে দিতে পারে এই একটি গোল চামড়ার বল।
সময়ের পরিক্রমায় আবারও আর একটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের ঘরের দুয়ারে দাড়িয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ এর জ্বরে সারা পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাঙ্গালীর ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পরার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দল এর সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ উপভোগ্য। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২০২৬ সালের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি- কান্না, সাফল্য – ব্যর্থতার মুহূর্ত। আসুন ফিরে দেখি বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছু বিতর্কিত, কলঙ্কিত এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।
বিশ্বকাপ ফুটবল এর ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনার অন্যতম ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফ্রান্স এবং কুয়েতের মধ্যকার ম্যাচ। ২১শে জুন ১৯৮২ প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স মিডফিল্ডার অ্যালেন গ্রিসি এর গোলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। কুয়েত খেলোয়াড়দের দাবী তারা বাঁশির আওয়াজ শুনে খেলা থামিয়ে দেয়। আর সেই সময় অ্যালেন গ্রিসি গোলটি করেন। তারা গোল বাতিলের দাবী জানায় রেফারিকে।
গ্যালারীতে বসে থাকা তৎকালীন কুয়েত ফুটবল ফেডারেশন এর প্রেসিডেন্ট শেখ ফাহাদ আল-আহমেদ আল-সাবাহ্ কুয়েতের খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বেড়িয়ে আসতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নিজেই গ্যালারী ছেড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং রেফারির সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। রেফারি মিরোসলাভ স্টুপার দীর্ঘ সময় আলোচনার পর উক্ত গোলটি বাতিল করেন। উক্ত ঘটনার জন্য রেফারি মিরোসলাভ স্টুপার তার আন্তর্জাতিক রেফারি সনদ হারান এবং শেখ ফাহাদ আল-আহমেদ আল-সাবাহ্ কে মাত্র ১০০০০ ডলার জরিমানা গুনতে হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

