আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটে এক-দুই জোড়া ভাই থাকা যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার। এই যেমন গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে প্রথম টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩৯ রানে হারিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর দুই আইরিশ ভাই। দুই ভাই হ্যারি টেক্টর ও টিম টেক্টরের ব্যাটিংয়েই লড়াই করার মতো পুঁজি দাঁড় করায় আয়ারল্যান্ড। তাদের আরেক ভাই জ্যাক টেক্টরও ক্রিকেট খেলতেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে আয়ারল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্যাক। শুধু তাই নয়, তাদের বোন অ্যালিস টেক্টর অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলেছেন। এছাড়াও অনেক ভাইদের ইতিহাসে সমৃদ্ধ আইরিশ ক্রিকেট। এড জয়েস ও ডম জয়েস, নেইল ও’ব্রায়ান ও কেভিন ও’ব্রায়ান ভাইরা এ তালিকায় সবার ওপরে থাকবেন।
জয়েসরা পাঁচ ভাই ক্রিকেট খেলতেন। মারকুটে ওপেনার এড জয়েস তো ইংল্যান্ডের হয়েও খেলেছেন। পরে আবার মাতৃভূমির হয়েও খেলেছেন। তাদের তিন বোনও ক্রিকেটার ছিলেন। এরমধ্যে দুই যমজ বোন সেসেলিয়া জয়েস ও ইসোবেল দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলেছেন। বর্তমান আয়ারল্যান্ড দলেই আরও ভাইয়েরা রয়েছেন।
ডেলানি, টাকার, এডাইয়ার ভাইরা গত ক’বছর ধরে ঘুরেফিরে জাতীয় দলে খেলছেন। আয়ারল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার লোরকান টাকার। ২০১৬ সালে অভিষেক হয় উইকেটকিপার এ ব্যাটারের। তাঁর বাবা, ভাইও ক্রিকেটার ছিলেন। লোরকান টাকার ও ভাই ফিয়াচেরা টাকার ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আয়াল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গত বৃহস্পতিবার প্রথম টি২০-এর দলে থাকা লেগস্পিনার গ্যারেথ ডেলানিও ক্রিকেট পরিবার থেকে এসেছেন। তারা চার ভাই ক্রিকেট খেলেন–গ্যারেথ ডেলানি, ডেভিড ডেলানি, অ্যান্ড্রু ডেলানি ও ইয়োহান ডেলানি। এরমধ্যে ডেভিড ডেলানি আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। ২৭ বছর বয়সী এ পেসার জাতীয় দলের হয়ে ৮টি টি২০ খেলেছেন। গ্যারেথ ডেলানির বড় বোন লরা ডেলানি গত ১৫ বছর ধরে আয়ারল্যান্ড নারী দলের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার।
পেস বোলার মার্ক এডাইয়ারের বড় ভাই রস এডাইয়ারও ক্রিকেটার। টপ অর্ডার ব্যাটার কাম বাঁহাতি এ স্পিনার গত সেপ্টেম্বরেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে ছিলেন। বাংলাদেশ সফরের টি২০ দলে থাকা আরেক পেসার ব্যারি ম্যাককার্থিও ক্রিকেট পরিবার থেকে এসেছেন। তাঁর বোন লুসি ম্যাককার্থি আয়ারল্যান্ড নারী দলে খেলেছেন। আইপিএলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আয়ারল্যান্ডের তারকা পেসার জশ লিটলের দুই বোন লুসি লিটল ও হান্না লিটলও আয়ারল্যান্ড নারী দলে খেলেছেন। আয়ারল্যান্ড টি২০ দলের অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের বড় ভাই রিচার্ড স্টার্লিংও ক্রিকেটার ছিলেন। ভাইয়ের মতো রিচার্ডও ওপেনার ছিলেন। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের পর তিনি আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি।
আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটে এতো ভাইয়ের সমাহার দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে বিষয়টা নিয়ে। উনিশ শতকে পূর্ব আয়ারল্যান্ডে তুমুল জনপ্রিয় খেলা ছিল ক্রিকেট। কিন্তু জাতীয়তাবাদের ধুয়া তুলে ১৯০২ সালে নিষিদ্ধ করা হয় ক্রিকেট। ‘বিদেশি খেলা’ তকমা দিয়ে ক্রিকেট খেলা তো দূরের বিষয়, দেখাও নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞার চক্করে পড়ে আয়ারল্যান্ডে ক্রিকেট হয়ে যায় একটি পারিবারিক খেলা। ১৯৭১ সালে ওঠে এই নিষেধাজ্ঞা। তবে নিষিদ্ধ থাকার সুদীর্ঘ সময়টা সেখানে ক্রিকেটচর্চা সীমাবদ্ধ ছিল পারিবারিক আবহে। চার দেয়ালের ভেতরে ভাইবোনেরা মিলে খেলতেন। এই চর্চা এখনও চলমান; যার প্রভাব জাতীয় দলে ভালো মতোই রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

