বই পাঠের আসরে নতুন গিনেস রেকর্ড

আবুধাবিতে ৭০টি দেশের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধল রিডিং ক্লাব

ফরহাদ হুসাইন, মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বই পাঠের আসরে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন ৬৯টি ভিন্ন দেশের পাঠকরা। এত বেশি সংখ্যক দেশের মানুষ একসাথে একটি বই পাঠের আসরে অংশ নেওয়ায় এটি একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কলিমা রিডিং ক্লাব, যা ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমিরাত জুড়ে বিভিন্ন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত পাঠচক্র চালিয়ে আসছে।

আবু ধাবি এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের অধীনে পরিচালিত এই ক্লাবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা একত্র হন রুকাইয়া ইয়াসমিন খানের লেখা একটি বই নিয়ে আলোচনার জন্য। বইটির নাম বেদুইন অ্যান্ড আব্বাসিদ কালচারাল আইডেন্টিটিজ, দ্য অ্যারাবিক লাইলি মজনুন স্টোরি। এই সমাবেশ শুধু নতুন একটি রেকর্ডই গড়েনি, বরং আমিরাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে ক্লাবের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ারও একটি প্রমাণ হয়ে থাকল।

আবুধাবি এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সাইদ আল তুনেইজি বলেন, এই উদ্যোগটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বই ও আরবি ভাষার সাথে যুক্ত করার সামগ্রিক প্রচেষ্টার একটি অংশ। তিনি বলেন, পাঠাভ্যাস তৈরি করা ও তার প্রসার ঘটানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। আরবি ভাষা যাতে সমাজে, কথ্য ভাষায় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও ছড়িয়ে পড়ে ও শক্তিশালী হয়, সে জন্য নানা বয়সের মানুষকে আকৃষ্ট করে এমন পাঠ সেশন ও ক্লাবের ওপর জোর দেওয়াটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করেন।

জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়ামের এই আসরের জন্য যে বইটি বেছে নেওয়া হয়, তা মূলত সপ্তম শতাব্দীর আরবে জন্ম নেওয়া একটি ক্লাসিক প্রেমের গল্প লাইলি মজনুনের ওপর খানের একটি গবেষণাধর্মী কাজ। বেদুইন ও আব্বাসীয় যুগে এই গল্পটি কীভাবে বিকশিত হয়েছিল এবং সমাজে কীভাবে মূল্যায়িত হয়েছিল, বইটিতে তা তুলে ধরা হয়েছে।

আল তুনেইজি বলেন, এই গল্প ও বইটি বেদুইন এবং আব্বাসীয় যুগের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা করে, পাশাপাশি আঞ্চলিক গল্প গঠনে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির প্রভাব নিয়েও কথা বলে। আজকের দিনে এটি মানুষের মধ্যে গভীর আবেগ ও আগ্রহ তৈরি করে, যা তাদের এই গল্পের ইতিহাস অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলে। তার ভাষায়, এই গল্পটি কীভাবে তৈরি হলো, কীভাবে সময়ের সাথে বদলাল, কল্পনা আর বাস্তবতা একসাথে মিলে একে কীভাবে নতুন রূপ দিল এবং শেষ পর্যন্ত এটি কীভাবে আরব সমাজের পরিচয় ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল, তার পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।

কলিমা রিডিং ক্লাব ২০০৭ সালে শুরু হওয়া কলিমা অনুবাদ প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই এটি নিয়মিতভাবে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন পাঠ সেশনের আয়োজন করে আসছে। আল তুনেইজি জানান, স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রতি সপ্তাহে কলিমা রিডিং ক্লাব ফর স্কুলসের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হয়, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত সেশন আয়োজন করা হয়। ফলে এই ক্লাবের মূল ভাবনাটিই তৈরি হয়েছে সমাজের বিভিন্ন অংশকে কেন্দ্র করে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া পঁয়ত্রিশতম আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বইমেলার ঠিক পরপরই এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। আল তুনেইজি বলেন, বইমেলা এবং এই ধরনের ক্লাব উদ্যোগগুলো সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, তাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ এবারের বইমেলায় অংশ নিয়েছেন, যা মেলার একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকাশকদের মধ্যে দেখা যাওয়া উচ্ছ্বাস, বিভিন্ন ধরনের মানুষের উপস্থিতি এবং প্রাণবন্ত পরিবেশ তাদের আনন্দিত করেছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল ও অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে, যা অনুবাদের মাধ্যমে আরবি বই ও আরবি ভাষাকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, আগে তারা মূলত অন্যান্য ভাষা থেকে আরবি ভাষায় অনুবাদ করতেন, কিন্তু এখন সেই ধারা উল্টো দিকেও প্রবাহিত হচ্ছে, অর্থাৎ আরবি থেকে বিশ্বের অন্যান্য ভাষাতেও বই রূপান্তরিত হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন