হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার প্রশাসন যখন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না, তখন এমন হুমকি দিলেন তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করা শেষ হলে’ তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অবরোধ চালু রেখেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প তার প্রশাসনের নতুন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে প্রণালিটি প্রায় বন্ধ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখনো অচলাবস্থায়। প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও তেহরান আলোচনা করতে রাজি হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচল এবং বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে অবরোধ চালিয়ে আসছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই এর লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে ইরান ভয় পাবে না।

হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ইরানের কর্তৃত্বের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

তিনি আরও বলেছিলেন, এই নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ধরে রাখবে। তবে হরমুজ একটি আন্তর্জাতিকভাবে নৌ চলাচলযোগ্য জলপথ। এর দুই পাশে রয়েছে ইরান ও ওমান।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে দেশটির সাধারণ মানুষকে পেট্রল কিনতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। তবে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, জ্বালানির জন্য কিছুটা বেশি দাম দিতে হলেও আমেরিকানদের তা মেনে নেওয়া উচিত।

তার যুক্তি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না বলেও জানান।

গত প্রায় ছয় মাসে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের দাবি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করছে। তবে তেহরান এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

গত শনিবারও ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ নিঃশর্তে ছাড়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

ফলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরো তীব্র হয়েছে। শান্তি আলোচনা যেখানে এখনো অচলাবস্থায়, সেখানে ট্রাম্পের নতুন এই হুমকি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন