কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে ইতুরি প্রদেশে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ২৪৬ জন। ফলে পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই রোগ প্রধানত দেখা দিয়েছে স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ শহর মংওয়ালু ও রাওয়াম্পারায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
রাজধানী কিনসাসায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রাচারচে বায়োমেডিকেলে প্রাথমিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) বলেছে, তারা ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে এই ভাইরাস নিশ্চিতভাবে পেয়েছেন। এতে কি ধরনের স্ট্রেইন আছে তা যাচাইয়ের জন্য আরো পরীক্ষা চলছে।
প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়া’তেও আরও সংক্রমিত আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্ত এলাকায় জনগণের চলাচলের মধ্য দিয়ে, খনিজ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি আছে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কঙ্গো থেকে এই ভাইরাস কেউ বহন করে সেখানে নিয়েছে বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছে উগান্ডা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সোমবার ৫৯ বছর বয়সী একজন কঙ্গোলিজকে কাম্পালায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে ইবোলা পজেটিভ ধরা পড়ে। এরপর আইসিইউতে বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি। কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয়ভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক ডা. জিন কাসেয়া বলেন, আক্রান্ত অঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে জনগণের চলাচলের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। নজরদারি বাড়াতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কঙ্গো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও অন্য অংশীদারদের যৌথ কর্মসূচি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এজেন্সি। কঙ্গো সরকারের সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে তারা প্রতিবেশী দেশগুলো, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করবে।
উল্লেখ্য, কঙ্গোতে যে ইবোলা দেখা দিয়েছে এখন, তা প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে। মনে করা হয়, এই ভাইরাসের উৎস হলো বাঁদুর। শারীরিক তরলের সঙ্গে সরাসরি কন্ট্যাক্টের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে মারাত্মকভাবে রক্তক্ষরণ হয়। অঙ্গ বিকল হয়। গড়ে মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগ। ইবোলা লক্ষণের প্রাথমিক উপসর্গ হলো জ্বর, অবসন্নতা, মাংসপেশী ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, গলায় প্রদাহ, বমি, শরীরে ফুটকুরি ওঠা, ডায়রিয়া হওয়া। এতে শরীরের ভিতরে বা বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ রোগের কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা নেই। তবে সম্পূরক চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে থাকার সুযোগ বাড়তে পারে।
ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অ্যালায়েড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস সহ সশস্ত্র গ্রুপগুলো ২০২১ সালে ইতুরি প্রদেশে সামরিক শাসন জারি করে। তখন থেকেই প্রদেশটি অস্থির অবস্থায় আছে। এই ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হওয়ার পর কঙ্গোতে ১৭ বার ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এ সময়ে প্রায় ২৩০০ মানুষ মারা যান এ ভাইরাসে।
খুলনা গেজে/এএজে

