শনিবার । ১৬ই মে, ২০২৬ । ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি দুই রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সা। তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আমদানি ব্যয়ের তালিকায় এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এবং স্বর্ণ আমদানি সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।

বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র সম্প্রতি এক প্রবন্ধে বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

তার মতে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অর্থ প্রত্যাহার ঠেকাতে আরো ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ দরকার হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় প্রতি ডলার কিনতে যেখানে ৯১ রুপি লাগত, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ রুপি। ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন