শুক্রবার । ১লা মে, ২০২৬ । ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩

৬০ দিনের নিয়ম এড়াতে যুদ্ধ ‘শেষ’ দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করেছে, ইতোমধ্যে ইরানে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছে। গত মাসের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতি এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউসকে সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ ‘শেষ হয়ে গেছে’। উভয় পক্ষ গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি, হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই ধরনের যুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের বাধ্যতামূলক শর্তটি পূরণ করেনি। এই আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।

এই দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গতকাল সিনেটে দেওয়া যুক্তিকে আরও জোরালো করে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত যুদ্ধকে স্থগিত করেছে। এ যুক্তির ভিত্তিতে প্রশাসন মনে করছে, ১৯৭৩ সালের আইনে নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এখনও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।

ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলুশন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শুক্রবারের (১ মে) মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বা যুদ্ধ বন্ধ করার কথা ছিল। এ আইন প্রশাসনকে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও দেয়।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রেসিডেন্ট নন; কিন্তু প্রশাসন কর্তৃক স্বল্পমেয়াদি বা তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলা হিসেবে বিবেচিত অভিযানের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

এপি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে তার ইরান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাইতে চাপ দিয়েছে এবং ৬০ দিনের সময়সীমাটিকে বহুসংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যারা তেহরানের বিরুদ্ধে অস্থায়ী পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও দীর্ঘমেয়াদি কিছুর জন্য কংগ্রেসের মতামতের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

যুদ্ধের বিরোধিতায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। আগে যারা এই ধরনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও এবার কয়েকজন সমর্থন দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু একজন (মেইনের জ্যারেড গোল্ডেন) এর বিরোধিতা করেন। আর রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র একজন (কেন্টাকির টমাস ম্যাসি) প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।

অন্যদিকে, আরেক রিপাবলিকান সদস্য আগের মতো এবারও সরাসরি পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ ভোট দিয়েছেন।

এর আগে বিশ্লেষক ও কংগ্রেসের সহকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, কংগ্রেসকে ৩০ দিনের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানাবেন ট্রাম্প। সংঘাত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন জনমনে হতাশা বাড়তে থাকায় রিপাবলিকানদের জন্যও এটি রাজনৈতিকভাবে সংকটপূর্ণ সময়।

রিপাবলিকান সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেছেন, ইরানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার বা এ বিষয়ে অন্য কোনোভাবে মন্তব্য করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলের সদস্যরা যা বলছেন তা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছি, এবং এই মুহূর্তে আমি তেমন কিছু দেখছি না।

রিপাবলিকান সিনেটর কেভিন ক্রেমার বলেছেন, ট্রাম্প চাইলে তিনি যুদ্ধের অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেবেন। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে পাস হয়েছিল, আসলেই সাংবিধানিক কি না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন