দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাষ্ট্রদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে তাকে এই সাজা দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসন চাপিয়ে দেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাকে।
এছাড়া ইউন সুক ইওলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে তিনি সামরিক আইন জারি করেছিলেন বলে বিচারকেরা রায় দিয়েছেন। এর দায়ে ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে বাকি জীবন কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত৷ তবে প্রসিকিউটররা তার মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।
ইউনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিত যড়যন্ত্রের সামিল ছিল বলে উল্লেখ করেছেন বিচারক জি গুই-ইয়েওন। তিনি বলেন, সামরিক আইন জারির কারণে ব্যাপক সামাজিক ক্ষতি হয়েছে এবং আসামি এর জন্য কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন ইউন। তবে ইউন শুরু থেকেই বলে আসছেন যে তিনি কোনও অন্যায় করেননি। স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি সব করেছেন বলে দাবি করেছেন।
২০২২ সালের মার্চে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির এই নেতা৷ ক্ষমতায় থাকাকালে তার সরকারের নানা পদক্ষেপ একের পর এক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এদিকে ওই সময় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার অভিযোগেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছরের এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আদালত বলেছে, আসামিরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুর রায়ের পর এই রায় দেয়া হলো। পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গত মাসে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

