সাতক্ষীরা মহাকুমার তালা থানার তেতুলিয়া গ্রামে ১৯৪৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্ম। মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হান্নান চিশতী তার বাবা। যুক্তবাংলার শিকার সৈয়দ জালাল উদ্দীন হাশেমীর বংশধর। ১৯৬২ সালে তালা বি কে ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক এবং দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে বিএল কলেজ অধ্যয়নকালে সাপ্তাহিক জনতার খুলনা সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত হন। এরপর সাপ্তাহিক দেশের ডাক, ৬৯ সালে সাপ্তাহিক স্বাধিকার পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে দৈনিক সংবাদের খুলনা প্রতিনিধি, ১৯৭১ সালে সাপ্তাহিক মুক্তি, ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক স্বকাল পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
১৯৭৮-৮০ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তা, ১৯৭৪ সালে হক কথায় নিয়মিত কলাম লেখক, ১৯৮০-৮৪ সাপ্তাহিক হলিডে’র খুলনা আবাসিক প্রতিনিধি, ১৯৮৮-৮৯ সালে বার্তা সংস্থা ইউএনবি, ১৯৯০-৯১ সালে ডেইলী স্টার এবং ১৯৯২ সালে দৈনিক দিনকালের খুলনা ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্রের সংবাদপাঠক ছিলেন। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ১৯৭৪ সালের বিশেষ কালাকানুনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশালে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন, পরবর্তীতে ন্যাপ (ভাসানী) ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট শেষে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘসময় খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানী নেতৃত্ব ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেন। ১৯৮২-১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরশাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৯-৭০ সালে বাংলাদেশ ম্যাচ কোম্পানি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের দু’বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বেতারের সংবাদ পাঠিকা ও স্কুল শিক্ষিকা বেগম রেহানা আক্তারের সাথে ১৯৭২ সালের ২৮ মে বিয়ে হয়। ২০০১ সালের ৩ মে ইন্তেকাল করেন। তেতুলিয়া পারিবারিক কবরস্থানে সমাধি। তার স্মৃতি রক্ষার্থে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল এলাকার সৈয়দ ঈসা জেনারেল ও টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। তার সংগ্রামী জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ তালা থানা সদরের ডাকবাংলা চত্বরে পাকিস্তানের চাঁনতারা খচিত পতাকা পুড়িয়ে ফেলেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

