বুধবার । ২৫শে মার্চ, ২০২৬ । ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

তরুণরাই পারে সামাজিক সংঘাত দূর করতে

কাজী মফিজুর রহমান

আমি আগে অনুমান নির্ভর ছিলাম। কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর এখন অনেক কিছুই সঠিক ভাবে বুঝতে পারি। বুঝতে পারি কোথায় কি ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং কী উপায়ে তার সমাধান করা সম্ভব; এটাও বুঝি সমস্যা সমাধানে কাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবেই; আগামীতে আরও বাড়বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও। তাই ভাবতে হবে এখন থেকেই। নিতে হবে প্রস্তুতি। এর জন্য তথ্য জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে। নিজের মধ্যে যদি জ্ঞান থাকে তাহলে কাউকে উপদেশ না দিয়ে উপায় বলা যাবে। আর একটা কথা হলো এটা কারো একার দ্বারা সম্ভব নয়। এ জন্য সংঘবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নাই। একাকে একশ’ মনে না করে একশ’ জনে এক হতে পারলেই প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে অতীব সহজে। যে শিক্ষা আমরা বিগত ছয় মাস ধরে বিভিন্নভাবে নিয়েছি। এসব কথা বলছিলেন, দেশের সর্ব দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পিএসসিসির যুগ্ম আহ্বায়ক সামিয়া আক্তার। পিএসসিসি হল- পিচ এণ্ড সোশ্যাল কোসসেন সার্কেল বা শান্তি ও সামাজিক সংহতি চক্র।

জানা যায়, কার্যক্রমের ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণে যুব, নারী, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় প্রশাসনের অংশগ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অসংগতি ও ন্যায় বিচারের অভাবে সৃষ্ট সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, বর্ডার পুশ ইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংসের হুমকিসমূহের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে প্রান্তিক যুব ও নারীরা শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা থেকে বঞ্চিত। তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের বিরোধগুলো অমীমাংসিত থাকে, যা দিনে দিনে তীব্র হয়। ভুল তথ্য ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে আন্তগোষ্ঠী সম্পর্ককের আরও অবনতি ঘটে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক ও যুবদের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করা, স্থানীয় পর্যায়ে অহিংস সমাধান দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সংঘাত বৃদ্ধির আগে শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো তৈরি করা জরুরি। মূল কথা এই কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুব ও নারীদের ক্ষমতায়ন করা।

যুব ও নারীরা তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আশ্বস্ত হচ্ছে ও ভূমিকা রাখছে। তরুণরা বিভিন্নভাবে একত্রিত হয়ে তিন দিনব্যাপী শান্তি ও সংহতি সার্কেল সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করার ফলে ছোট বড় শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই তারা এসব বিষয়ে সচেতন হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয়ভাবে সংঘাতের ঝুঁকি ও কারণসমূহ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশাসন ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যৎ হস্তক্ষেপের জন্য বাস্তবভিত্তিক কনফ্লিক্ট ম্যাপিং/সংঘাত মানচিত্র তৈরি হয়েছে। ৩০০ জনের ১০টি সক্রিয় শান্তি সার্কেল গড়ে উঠেছে, যার অর্ধেকই নারী। এই ৩০০ জন যুব ও নারী শান্তির দূত হিসেবে প্রস্তুত হয়েছে, যারা যে কোনো সমস্যায় একত্রিত হয়ে কাজ করবে।

শুরু থেকে কার্যক্রমের সঙ্গে রয়েছেন শ্যমনগরের গণমাধ্যম কর্মীরা। তাদের ধারণা, এ অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারি, মাদক পাচারকারী, নারী পাচারকারীসহ নানা সমস্যা রয়েছে। সেখানে অনেক ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যা নিরসনে কাজ করবে এই দল। তবে এই কাজের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। এত অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখানো হয়েছে এমনটি নয়। আরও দীর্ঘ মেয়াদি এই কাজ চলমান রাখতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং সংঘাত প্রতিরোধ, শিরোনামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর। সহযোগিতায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান হাই হাইকমিশন। মাত্র ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পটি মেয়াদকাল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মোট ৪০টি ইউনিয়নে কাজটি সুসম্পন্ন হয়। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় ১২টি, কালিগঞ্জে ১২টি, আশাশুনিতে ১১টি ও দেবহাটায় ৫টি ইউনিয়ন।

লেখক : উন্নয়ন কর্মী।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন