যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার সম্পর্ক কি সত্যিই আইনি বিচ্ছেদের পথে পৌঁছেছে? হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের কাছাকাছি নীলাঞ্জনা শর্মার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে সেই প্রশ্নই উসকে দিল টলিপাড়ায়। যদিও পোস্টে কোথাও সরাসরি বিচ্ছেদের কথা লেখা নেই, তবুও বিচ্ছেদের ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
একটি নোট শেয়ার করে নীলাঞ্জনা লেখেন, কোনও কিছু যখন শেষ হয়, তার মানে এই নয় যে সেটি অর্থহীন ছিল। বরং সেটি আমাদের গড়ে তোলার কাজ শেষ করে ফেলেছে বলেই হয়তো তার সমাপ্তি ঘটে। পোস্টে তিনি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। লেখেন, যখন নিজেকে চিনতেন না, তখন সেই অধ্যায় তাকে কী দিয়েছে, কীভাবে মর্যাদা বজায় রাখতে শিখিয়েছে এবং কীভাবে তার ভেতরে স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান গড়ে উঠেছে তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। নীলাঞ্জনার কথায়, আমি এখানে আমার কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছি। আমি শিখেছি, নিজের ভার আমি নিজেই বহন করতে পারি। তিনি আরও জানান, এই সমাপ্তি তাকে শূন্য করে দেয়নি। বরং স্পষ্টতা, সাহস এবং নিজের ওপর গভীর বিশ্বাস হিসেবেই তা তার ভেতরে থেকে যাবে।
বর্তমানে টলিউডের অন্যতম সফল মহিলা প্রযোজক নীলাঞ্জনা শর্মা। তার প্রযোজনা সংস্থা ‘নিনি চিনিস মাম্মাস প্রডাকশন’-এর একাধিক ধারাবাহিক নিয়মিত সম্প্রচারিত হচ্ছে ছোট পর্দায়। একসময় যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা সংস্থা গড়েছিলেন তিনি। মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরু করা নীলাঞ্জনা একসময় মুম্বইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ার পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রেমের টানে সব ছেড়ে কলকাতায় এসে সংসার পাতেন যিশুর সঙ্গে। তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাদের সম্পর্কে ভাঙনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।
এই বিচ্ছেদ নিয়ে যিশু বা নীলাঞ্জনা কেউই এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে টলিপাড়ার অন্দরমহলে নানা চর্চা চলছে। কারও দাবি, যিশু নাকি নিজের এক ঘনিষ্ঠ সহকারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আবার অন্য পক্ষের মতে, নীলাঞ্জনার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণেই নাকি সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের দুই মেয়ে সারা ও জারা। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবাকে আনফলো করতেও দেখা গিয়েছে দু’জনকে।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মা। ২২ বছরের দাম্পত্যের পর কি তবে এবার আইনিভাবেই আলাদা হল তাদের পথ? নীলাঞ্জনার পোস্ট সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তার উত্তর এখনও সময়ই দেবে। তবে এই মুহূর্তে, শব্দের নীরবতাই সবচেয়ে বেশি কথা বলছে।
খুলনা গেজেট / এম এন এস

