বুধবার । ৩রা জুন, ২০২৬ । ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাদরাসা শিক্ষকদের বদলিতে নতুন নিয়ম জারি, সর্বোচ্চ ৩ বারের বেশি নয়

গেজেট প্রতিবেদন

দেশের বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে তিনি বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এই নীতিমালাটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি মাদরাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে এবং ওই শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন আহ্বান করবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলাসহ পারিবারিক সুবিধার কথা বিবেচনায় দেশের যেকোনো জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে তিনি শুধুমাত্র সমমানের বা সমস্তরের মাদ্রাসায় একই পদে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে। চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

নীতিমালায় দূরত্ব নির্ধারণেরও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগী আবেদনকারীরা একই উপজেলার হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কেন্দ্র থেকে, বিভিন্ন উপজেলার হলে জেলা কেন্দ্র থেকে এবং বিভিন্ন জেলার হলে বিভাগীয় শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব গণনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত মডেল অনুসরণ করা হবে।

একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। আবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করার আগে তিনি পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না।

বদলির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা মহাপরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত থাকবে। বদলির পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সফটওয়্যার ও অনলাইন আবেদন ফরমের কাঠামো নির্ধারণ করবে।

বদলি হওয়া শিক্ষকের ইনডেক্স অনলাইনে আগের প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে। তার এমপিও সুবিধা, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতাও বহাল থাকবে। তবে বদলিকে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারবেন না এবং বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টিএ বা ডিএ প্রদান করা হবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যোগদানের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনলাইনে এনটিআরসিএ এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। অবমুক্তি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে।

স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত অথবা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। তবে জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষককে বদলি করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে এনটিআরসিএ।

এদিকে নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা (মাদরাসা) প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৪’ বাতিল করা হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন