কিস্তির চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

এনজিওর ঋণের কিস্তি আর সংসারের খরচ—দুই দিক সামলাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মাসুদ দাঁড়িয়া (৩৭)। যে কারনে কয়েকদিন ধরেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন, বলছিলেন ‘আমি মরে যাব’।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে নিজ বাড়িতে গলায় মারাত্মক আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আর এমন ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার লোহারঙ্ক গ্রামে। মাসুদ দাঁড়িয়া উপজেলার লোহারঙ্ক গ্রামের আবু বক্কর দাড়িয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আয়-রোজগার কম হওয়ায় একদিকে কিস্তি, অন্যদিকে সংসারের নিত্যদিনের খরচ—কোনোটিই ঠিকমতো সামলাতে পারছিলেন না মাছুদ। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ নিয়ে ক্রমেই মানসিকভাবে বিষণ্ন হয়ে পড়েন তিনি। গত কয়েকদিনে মাসুদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠবে, তা তারা বুঝতে পারেননি।

মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে থাকা অবস্থায় মাসুদ নিজের গলায় গুরুতর আঘাত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

মাসুদের চাচাতো ভাই নুরুন্নবী দাঁড়িয়া বলেন, ‘বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিল। আয়-রোজগার কম হওয়া একদিকে কিস্তি দিতে পারছিল না, অন্যদিকে সংসারের খরচও চালাতে পারছিল না। এসব নিয়ে সে মানসিকভাবে খুব বিষণ্ন হয়ে পড়েছিল।’

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহুল কুমার বলেন, গলায় মারাত্মকভাবে কেটে গেছে। ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ জানান, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে পরিবার থেকে বিষয়টি জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা গেজেট/উউরা

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন