চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়েছে। এতে রাউজান থানার পুলিশের ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়েনগর বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে রাউজান থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।
অভিযানে গুলিবিদ্ধ দিলদার হোসেনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান চক্রের অন্যতম হোতা মো. জাকের আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২) ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২)।
এসপি মাসুদ আলম জানান, জাকের আলম ও আজিজ বসের নেতৃত্বে সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং আদায় করে আসছিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানের সময় জাকের আলমের বসতঘরে জাকের আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল (২৭), মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মো. বাঁশা (৪৫) ছিলেন। পুলিশ প্রবেশ করতেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আহত ১২ পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. নোমানেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রফিউল হোসেনসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দিলদার হোসেনের হেফাজত এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ডিবিবিএল (দোনলা) বন্দুক, একটি এসবিবিএল (একললা কাটা) বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয়টি সিসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কিরিচ এবং দুটি গুলি রাখার পাউচ উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

