সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুর

গেজেট প্রতিবেদন

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই-দক্ষিণ মানিকদীর একটি আবাসন প্রকল্পে রাতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ফিল্মি স্টাইলে শতাধিক সন্ত্রাসী সেখানে গুলিবর্ষণ করে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়, কোপানো হয় বেশ কয়েকজনকে। দুর্বৃত্তদের হামলায় তছনছ হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে অবস্থিত নিউগিনি হাউজিং প্রোজেক্টের গেটে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, মুখোশধারী শতাধিক ব্যক্তি ৪টি পিকআপ ভ্যানে করে দক্ষিণ মানিকদীতে নির্মাণাধীন আবাসিক এলাকাটিতে ঢুকে পড়ে। এসময় আতঙ্ক ছড়াতে ছোড়া হয় এলোপাতাড়ি গুলি। অনেকের হাতেই দেশীয় অস্ত্র, ভেঙে ফেলা হয় সব সিসিটিভি ক্যামেরা, কুপিয়ে আহত করা হয় বেশ কয়েকজনকে।

এ ঘটনায় আহত কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, তারা গেটের নিচ দিয়ে ঢুকে পড়ে। আমাকে দুটি পিস্তল দিয়ে ধরে, একটা উপরে আরেকটা নিচে। আমাদের কিছু লোককে ছুরি মেরে আঘাত করেছে। কারও মাথায় বাড়ি দিয়েছে।

৫ বিঘা জমির ওপরে এই আবাসন প্রকল্পে গড়ে উঠছে ১৭টি বহুতল ভবন। নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে মানুষের বসবাস কম। হাউজিং সোসাইটির মালিকপক্ষ বলছে, দুমাস আগেও একই কায়দায় হামলা করেছিল সন্ত্রাসীরা। মোটা অঙ্কের চাঁদার দাবিতেই তারা এমনটি করেছিল।

নিউগিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন রকম চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি, জমি দখলসহ নানান ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সঙ্গে করে আসতেছে। আজকে সাড়ে ১০টার নাগাদ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন আসে। সবাই অস্ত্রধারী। সবার হাতে অস্ত্র ছিল। সবাই অস্ত্র নিয়ে আমাদের যে মেইন গেট ছিল গুলি ছুরতে থাকে।

দুর্বৃত্তদের হামলায় তছনছ হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। কর্মীদের মারধর করে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, এটা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের ব্যর্থতা। প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল পার্টির ব্যর্থতা। হইছে তো, এইটা তো বাংলাদেশী। উই হ্যাভ টু অ্যাকনলেজ দিস, এটাই বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশী আইনে বিশ্বাস করি না। আমি আইনের ব্যাপারে অনেক নাস্তিক বাংলাদেশে।

হাউজিং সোসাইটির অফিস থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন স্থানে মেলে গুলির প্রমাণ। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ আসলে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। তবে পুলিশের দাবি এতেও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই।

তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন জানান, এখানে থেকে আমরা দুইটা ছুরি ও ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করছি। এটা কোনো রাজনৈতিক না, ভূমি নিয়ে বিরোধ।

সেনানিবাসের পাশে জনবহুল স্থানে কীভাবে এমন তাণ্ডব চালালো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী-এ নিয়ে চরম আতঙ্কিত দক্ষিণ মানিকদীবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রকাশ করেছেন তীব্র ক্ষোভ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন