জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান শিক্ষক সম্মেলন

সারাদেশের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন প্রত্যয়

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতির প্রসার এবং বিজ্ঞান শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে ১৭ জুলাই ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান শিক্ষক সম্মেলন ২০২৬।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ১৭৫ জন মাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং পেশাগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তোলাই ছিল এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিপটি), যারা ছিলো এই সম্মেলনের লিড ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার ও প্রোমোটার।

আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এইচআরডিআই)। সম্মেলনে অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষা, সমালোচনামূলক চিন্তন, উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বিজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের ‘ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য রূপান্তরমূলক শিক্ষণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষকদের শুধু জ্ঞান দানকারী নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে অনুপ্রাণিত করার মতো সহায়ক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিএসএইচই) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও অক্সফাম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা আজিজুর রহমান।

সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিপটি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. কে. এম. হাসান রিপন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী, অনুসন্ধিৎসু এবং সমস্যা সমাধানে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তিনি শিক্ষকদের প্রচলিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানের গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিকতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নে এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নে তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষকের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, একটি বৈজ্ঞানিক মননসম্পন্ন, উদ্ভাবনী এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান শিক্ষক সম্মেলন ২০২৬ কেবল একটি একদিনের আয়োজন নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা। এর ধারাবাহিকতায় আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬-এ ফলো-আপ প্রশিক্ষণ ও লার্নিং সেশনের আয়োজন করা হবে, যেখানে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণ-কৌশল, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী চর্চা বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ দেশের বিজ্ঞান শিক্ষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে, বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলবে এবং বাংলাদেশে উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খুলনা গেজেট/রুএ




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন