বুধবার । ১০ই জুন, ২০২৬ । ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বৃষ্টি ঝরলেও ভ্যাপসা গরমের দাপট থাকবে

গেজেট প্রতিবেদন

দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। গত শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করে তা এখন দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় বিস্তার ঘটেছে।

এর বিপরীতে পশ্চিমা বায়ুও সক্রিয় রয়েছে। আর এই পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক চেহারায় সেভাবে বৃষ্টি ঝরছে না। তবে আজ বুধবারও দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীতেও আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে। দেশের বাকি এলাকাগুলোতে দু-এক দিনের মধ্যে সক্রিয় হবে। এর ফলে ইতোমধ্যে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে; মৌসুমি বায়ু সারা দেশে পুরোপুরি সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। আগামী দুই দিন বৃষ্টির প্রভাবে সারা দেশে তাপমাত্রা কমে ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এবার বর্ষায় বৃষ্টি হলেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকবে। এছাড়া এবার এল নিনো সক্রিয় থাকায় সারা বিশ্বেই এর প্রভাব থাকবে। এতে বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

এদিকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বেশি বৃষ্টির প্রবণতা দেখা গেছে বরিশাল বিভাগে। সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ডও করা হয় এই বিভাগের খেপুপাড়ায় ১০৬ মিলিমিটার। এ সময় রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখা গেছে। আজ রাজধানীতে আরো বৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণত দেশের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ কিংবা এর বেশি তাপমাত্রা দেখা দিলে মৃদু তাপপ্রবাহ ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার বৃষ্টির প্রভাবে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। যদিও আগের দিন সোমবার দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল।

সংস্থাটির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার সারা দেশেই তাপমাত্রা কমেছে। মঙ্গলবার যশোরে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ সকাল ৬টার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পরে অর্থাৎ, গত শনিবার দুপুরে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। তবে তা এখন চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দিকে ছড়িয়েছে। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাজুড়ে এর বিস্তার ঘটেছে। পুরোপুরি সারা দেশে ছড়াতে আরো দু-এক দিন সময় লাগতে পারে। তখন দেশে প্রচু বৃষ্টি ঝরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মল্লিকের মতে, দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগের বেশি হয় মৌসুমি বায়ুর কারণে। তবে এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হতে পারে। অথচ এ বছরের সবচেয়ে বেশি উষ্ণতম মাস হিসেবে পরিচিত এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হলেও জুন-জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন